বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমা প্রকাশন থেকে সদ্য প্রকাশিত আমার ব্র্যাক-জীবন: একজন উন্নয়নকর্মীর বেড়ে ওঠা বইটি মূলত আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরীর আত্মজীবনীমূলক বই। তবে এর প্রধান ভরকেন্দ্র ব্র্যাক ও ফজলে হাসান আবেদ। ফজলে হাসান আবেদ তাঁকে মমতায় বেঁধেছিলেন। সেই মায়া কাটিয়ে অন্য কোথাও যাওয়া তাঁর জন্য ছিল দুঃসাধ্য। ব্র্যাকের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল তাঁর জীবন। তাঁর জীবনের ব্রত ছিল একটিই, ব্র্যাককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

ব্র্যাকের সাড়াজাগানো উদ্যোগগুলোর অন্যতম আইসিডিডিআরবি উদ্ভাবিত লবণ-গুড়ের স্যালাইনের ধারণা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। এই স্যালাইনের প্রভাব যে কতটা উপকারী হয়েছিল, সেটি আজ ইতিহাস। এত সহজে দেশকে ডায়রিয়া থেকে মুক্ত করা ছিল অসাধ্য সাধন করা। এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয় ব্র্যাককে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষকে বোঝানো ছিল খুবই কষ্টকর। মোশতাক চৌধুরী শুনিয়েছেন নিরবচ্ছিন্ন ধৈর্যের মাধ্যমে সেই অসাধ্যসাধনের কাহিনি।

মোশতাক চৌধুরী মেতেছিলেন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ে গবেষণায়। এসবের গবেষণাই হয়ে ওঠে তাঁর ধ্যানজ্ঞান। গবেষণালব্ধ তথ্য ও কাজের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি সংস্থার জন্য তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ করাও ছিল তাঁর কাজের অঙ্গ। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছেন প্রবন্ধ, বাংলাদেশের কোনো লেখকের জন্য যা ছিল প্রথম। স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর কাজগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। লিখেছেন কৃষিবিষয়ক বইও।

ফজলে হাসান আবেদের সহযোগী হয়ে মোশতাক চৌধুরী ব্র্যাককে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন দেশ-বিদেশে। ছড়িয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এ ছাড়া ব্র্যাকের বাইরে বছর চারেক কাজ করেছেন থাইল্যান্ডের বড় প্রতিষ্ঠানে।

স্যার ফজলে হাসান আবেদের চেতনা, অভিপ্রায় ও কর্মযজ্ঞের সফল ধারক আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী। ব্র্যাক এ পর্যায়ে আসার পেছনে অবদান রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার কর্মী। তাঁদের অগ্রভাগে যাঁরা ছিলেন, তিনি তাঁদের অন্যতম। তাঁর অসাধারণ মেধা মানবসম্পদকেন্দ্রিক উন্নয়ননীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগে ব্যতিক্রমী অবদান রেখেছে। আমার ব্র্যাক-জীবন: একজন উন্নয়নকর্মীর বেড়ে ওঠা সেসব প্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতার একটি সুপাঠ্য সংকলন। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর এ বই বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অর্ধশতাব্দীর অন্তরঙ্গ আখ্যান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন