আজ মালুমঘাট ক্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে হীরা সুশীল ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, রাস্তার পাশে তাঁরা দুই বোন ও ছোট ভাই প্লাবন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কয়েক হাত দূরে অন্য ভাইয়েরা ছিলেন। পিকআপটি প্রথমে তাঁদের সামনে দিয়ে গিয়ে ছয় ভাইকে ধাক্কা দেয়। তখন তিনি দাদা বলে চিৎকার করে ওঠেন। পরে গাড়িটি পেছনে গিয়ে তাঁদের গায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর তিনি আর কিছু জানেন না।

অপর বোন মুন্নী সুশীলও একই কথা বলেছেন। তিনিও সেদিন হীরা ও ভাইদের সঙ্গে ছিলেন। মুন্নী বলেন, পিকআপটি একবার মেরে দিয়ে পরে আবার পেছনে আসে। তখন ভাইদের ওপর আবার উঠে যায়। তবে গাড়িটি প্রথমবার ধাক্কা দিয়ে সাইনবোর্ডে আটকে গিয়েছিল কি না, ওই কারণে পেছনে দিতে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন মুন্নী।

আট ভাই দুই বোনের মধ্যে হীরা তৃতীয়। তাঁদের এক ভাই হীরক দুই বছর আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এবার অপর ছয় ভাই একসঙ্গে চলে গেলেন। বাবার শ্রাদ্ধ উপলক্ষেই ভাইবোনেরা একত্র হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এক দুর্যোগ নেমে এসেছে পুরো পরিবারটির ওপর।

হীরাও এখন কেবল হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরতে চান। মা এবং স্বজনদের কাছে গিয়ে একটু মাথা রাখতে চান। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে পরস্পরের সমব্যথী হতে চান।

৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া মালুমঘাট এলাকায় পিকআপের ধাক্কায় একই পরিবারের আটজনকে চাপা দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে হীরার চার ভাই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান আরেক ভাই রক্তিম সুশীল। ঘটনায় সামান্য আহত অপর ভাই প্লাবন বাড়িতে ফিরেছেন। তবে তিনি মানসিকভাবে এখন বিপর্যস্ত। মাঝেমধ্যে অসংলগ্ন কথা বলছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন