বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনটি এবং ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে বাকি সাতটি ইউটার্ন খুলে দেওয়া হয়। তখন যত্রতত্র রোড ক্রসিংগুলো (উভয় পাশের সড়কে ডানে মোড় নেওয়া) বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এটি কার্যকর না হওয়ায় কিছুদিন পরই রোড ক্রসিংগুলো খুলে দেওয়া হয়। কারণ, আগের চেয়ে সড়কে যানজট বেশি হচ্ছিল। ইউটার্নগুলো উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উত্তরার রাজলক্ষ্মীর সামনে, উত্তরা র‍্যাব-১ অফিসের সামনে, ফ্লাইং ক্লাব কাওলা, বনানী ওভারপাস, বনানী আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে, বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি, মহাখালী আমতলী, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে, তেজগাঁও নাবিস্কো মোড় এবং সাতরাস্তার বিজি প্রেস এলাকায় এসব ইউটার্ন নির্মাণ করা হয়েছিল।

ইউটার্ন প্রকল্প কাজে না আসার দায় কে নেবে, জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, পুরো প্রকল্প যে ব্যর্থ হয়েছে, তা বলা যাবে না। এ ছাড়া এই প্রকল্প বহু আগে নেওয়া হয়েছিল। কোথায় কোথায় ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে, তা দেখার জন্য প্রকৌশলীদের বলা হয়েছে।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরার রাজলক্ষ্মীর সামনে এবং উত্তরা র‍্যাব-১ কার্যালয়ের সামনে দুটি ইউটার্নের অস্তিত্বই নেই। ইউটার্নের জায়গায় বিভাজক বসানো হয়েছে। তিন মাস আগে ইউটার্ন দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানান সেখানে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৮ সাল থেকে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এই তথ্য উত্তর সিটির অজানা নয়। এরপরও তারা সেখানে প্রায় সাত কোটি টাকা খরচ করে কেন ইউটার্ন নির্মাণ করেছিল, তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি করা দরকার।

ইউটার্ন চালুর পর মহাখালী থেকে কোনো গাড়ি বনানীর কাকলী হয়ে ডান দিকে মোড় নিতে পারত না অর্থাৎ গুলশান–২ নম্বরের দিকে যেতে পারত না। একইভাবে মহাখালীর আমতলী মোড় হয়ে গুলশান–১ নম্বরের দিকে যেতে পারত না কোনো গাড়ি। এখন দুটি পথই খুলে দেওয়া হয়েছে। এত দিন মহাখালী থেকে গুলশান-২ নম্বরে যেতে হলে বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম পেরিয়ে ডানে মোড় (ইউটার্ন) নিতে হতো। একইভাবে মহাখালী থেকে গুলশান–১ নম্বরের দিকে যেতে হলে বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী ইউটার্ন ব্যবহার করতে হতো।

ঢাকা উত্তর সিটির একাধিক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী সাংসদ এবং ‘ঢাকা চাকা’ (গুলশান–বনানী এলাকায় চলে) বাসমালিকদের অনুরোধে কাকলী ক্রসিং (ডান দিকে মোড় নেওয়া) খুলে দিতে হয়েছে। কাকলী ক্রসিং খুলে না দিলে অনেক ঘুরে আসতে হয়, এই যুক্তি দেখিয়ে এই মোড় খুলে দিতে উত্তর সিটিকে বাধ্য করা হয়েছে। আর মহাখালী এলাকার ইউটার্নগুলো উত্তরাঞ্চলের যাতায়াতকারী বাসচালকদের অসহযোগিতার কারণে কাজে আসেনি। আর উত্তরা এলাকার দুটি ইউটার্ন ভেঙে ফেলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উত্তর সিটির প্রকৌশলীরা।

জবাবদিহি না থাকার কারণেই অকার্যকর এমন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. সামছুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উন্নত দেশে সড়কের চেয়ে ফুটপাত চওড়া। অথচ ফুটপাত সংকুচিত করে ইউটার্ন তৈরি করা হয়েছে। এটা অমার্জনীয় অপরাধ। এতে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন