ভাতা বিতরণে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ইউনিয়ন সমাজকর্মীর

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনা মোকাবিলায় জরুরি সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজকর্মী মো. আবদুল কুদ্দুছ মারা গেছেন। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বিতরণের উদ্দেশ্যে কর্মস্থল থেকে রওনা হয়ে আজ রোববার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

আবদুল কুদ্দুছ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী ছিলেন।

মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন সামসুল হুদা কলেজ মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা প্রদানের দিন ছিল আজ। সুষ্ঠুভাবে ভাতা বিতরণের উদ্দেশ্যে সকাল নয়টায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলে রওনা হন আবদুল কুদ্দুস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আজমপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. লুৎফর রহমান। ভাতা বিতরণস্থলে যাওয়ার পথে ভালাইপুর ব্রিজ মোড়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হন ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান। গুরুতর আহত অবস্থায় কুদ্দুসকে ভর্তি করা হয় মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। যশোর যাওয়ার পথেই আবদুল কুদ্দুস মারা যান।

আবদুল কুদ্দুস স্ত্রী এবং মো. শামিম হোসেন সুজন (২৪) ও মো. শাহরিয়ার হোসাইন সোহান (২২) নামে দুই সন্তান রেখে গেছেন। দুই সন্তানই সদ্য মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে সমাজসেবা অধিদপ্তরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সড়ক দুর্ঘটনায় সমাজকর্মী মো. আবদুল কুদ্দুছের মৃত্যুতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম শোক জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের গবেষণা, মূল্যায়ন, প্রকাশনা ও গণসংযোগ শাখার উপপরিচালক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রায় ৮০ লাখ মানুষের হাতে দ্রুত ও নিরাপদে ভাতার টাকা পৌঁছে দিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার দুস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং কর্মহীন শ্রমিকদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর কাজ এখনো চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন