তিন দিনের সফরের মাসুদ বিন মোমেন আজ বুধবার ভারত গেছেন। সফরের শুরুতে তিনি চেন্নাইতে বাংলাদেশের নতুন চালু হওয়া উপহাইকমিশনের কাজের অগ্রগতি দেখবেন। কাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দিল্লিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের আলোচনার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। এবার আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা রয়েছে। এই সফরের সম্ভাব্যতা এবং সফরের উপাদান নিয়ে আলোচনা হবে। তা ছাড়া সামনে জেসিসির বৈঠক আছে। জেসিসি বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে জেসিসি বৈঠকের আগে বাণিজ্যসহ নানা পর্যায়ের সাত থেকে আটটি বৈঠক আয়োজনের কথা রয়েছে। এগুলো নিয়ে দুই পররাষ্ট্রসচিবের বৈঠকে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, কোভিড-১৯–এর কারণে দুই দেশের অনেক বৈঠক ও আলোচনা আটকে ছিল। এগুলো ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সংযুক্তির বিভিন্ন প্রকল্প, ঋণচুক্তির প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, অন্য যেসব ভূরাজনৈতিক বিষয় আবর্তিত হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতির অগ্রগতি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ আগের পর্যায়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় যাতায়াত স্বাভাবিকীকরণ করতে দুই দেশে আলাদাভাবে কিংবা আঞ্চলিকভাবে পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা বৃহস্পতিবারের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। ভারত আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে চলাচলের প্রক্রিয়া শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে। বাংলাদেশও যে দেশ (আকাশপথে চলাচল) শিথিলের প্রক্রিয়া চালু করছে, সেই দেশের সঙ্গে একই ধরনের ব্যবস্থায় যাওয়ার কথা ভাবছে।

প্যারিসে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ২০২১ সালকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য দারুণ একটি বছর হিসেবে উল্লেখ করে ২০২২ সালে এ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

প্যারিস সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে গত সোমবার সন্ধ্যায় প্যারিসে সৌজন্য সাক্ষাতের পর এস জয়শঙ্কর তাঁর টুইটে এ প্রতিশ্রুতি দেন। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফ্রান্স সফর করছেন। গতকাল ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এস জয়শঙ্কর এ বছরের প্রথমার্ধে দিল্লিতে জেসিসির বৈঠকে অংশ নিতে আব্দুল মোমেনকে আমন্ত্রণ জানান। জেসিসি বৈঠকের আগে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকগুলো শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির করার বিষয়টির ওপর আবার গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে সম্মত হয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন