default-image

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ভারতে করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির আরেকটু উন্নতি হলে সেখানকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাংলাদেশের রোগীদের ফেরানো হবে। এরপর পাঞ্জাব, দিল্লিসহ অন্যান্য স্থান থেকেও বাংলাদেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা হবে। সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষার জন্য পাঞ্জাবের লাভলী প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীসহ ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাসের কারণে ভারতের বিভিন্ন শহরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, চিকিৎসার জন্য এবং সফরে গিয়ে রয়েছেন বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, মুম্বাই, কলকাতা ও দিল্লিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মো. শাহরিয়ার আলম ফেসবুক বার্তাটি দেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশের একটি বেসরকারী সংস্থা একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে। যারা এরই মধ্যে বুকিং দিয়েছেন তারা ওই ফ্লাইটগুলোতে দেশে আসবেন। বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাইয়ের দূরত্ব বেশ। তাই যাহা সেখান থেকে আসতে চান তাদের যাতে অসুবিধা না হয়, আশপাশের শহর থেকে চেন্নাইতে আসতে চান তাদের যেন অসুবিধা না হয় সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বেসরকারি সংস্থার ফ্লাইটগুলো আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরিচালনা করা হবে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব ভারতের অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ বিমান এবং অন্য কোনো সংস্থার উড়োজাহাজ পরিচালনার।’

ভারতের পাঞ্জাবে লাভটি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির শ’ তিনেক শিক্ষার্থী গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফোন এবং ই-মেইলে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। তাদের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লাভলী প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে, ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে আমাদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এবং ডিনের সঙ্গে আমাদের হাইকমিশনার প্রতিনিয়ত দিল্লি থেকে ফোনে কথা বলেছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েক দিন আগেই জানিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পর্যাপ্ত তহবিল আছে। কাজেই তাদের অর্থের প্রয়োজন নেই। আমরা নিশ্চিত করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন আমাদের শিক্ষার্থীদের ডরমিটরি থেকে খাবার কিনে দেন। যারা আলাদাভাবে থাকেন তাদের জন্য খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি সব দেশেই সমান। শিক্ষার্থীরা যে দেশে রয়েছেন সেই দেশের নিয়মগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন। অযথা কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না। আপনাদের আচার আচরণের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত। আমরা বিদেশে আমাদের নাগরিকদের খুব বেশি অসহনীয় কষ্টের মধ্যে ফেলব না। তবে এই সময়ে কষ্ট বাংলাদেশের, ভারতের, অন্যান্য উন্নত দেশের নাগরিকদের হচ্ছে। আমরা সব সময় আপনাদের খোঁজ খবর রাখছি। আমরা জানি যে, খাদ্যাভ্যাসের জন্য বিশেষ করে যারা নিরামিষে অভ্যস্ত নন, আপনাদের যে সব খাবার দিচ্ছে তা খেতে আপনাদের অসুবিধা হচ্ছে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে, করোনা সমস্যা সমাধানে আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ আপনাদের অবদান হবে এই কষ্টটুকু সহ্য করা। শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের পাশে আছে বাংলাদেশ হাইকমিশন আপনাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো দেখবে। পরিস্থিতির আরেকটু উন্নতি হলে, যে রোগীরা ভারতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ফেরত আসবে তাদের নিয়ে আসার পরে আমরা চেষ্টা করব দিল্লি পাঞ্জাব এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন কীভাবে করা যায়। সেই পর্যন্ত আপনাদের আপনারা দয়া করে ধৈর্য ধরে থাকবেন। অবদান হবে এই কষ্টটুকু সহ্য করা।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন