এসব নানা আকারে আবির্ভূত হতে পারে। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদের স্বল্পতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর মানে, একই সময়ে আমাদের উচিত ক্রমবর্ধমান ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের প্রতিটি দিক স্থায়িত্বের দিকে ধাবিত করা।

এই লক্ষ্যে থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে। থাইল্যান্ড তার বিদ্যমান সম্পদ আরও সুসংগঠিতভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বায়ো-সারকুলার-গ্রিন (বিসিজি) বা সবুজ জৈবচক্র অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে বাংলাদেশও মুজিব জলবায়ু উন্নয়ন পরিকল্পনা নামে একটি সুস্পষ্ট পথনকশা গ্রহণ করেছে। যার মূল উদ্দেশ্য, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন রোধের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের’ প্রতিনিধিত্ব করছে। দেশটি দৃঢ়কণ্ঠে ভি-২০–এ জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়নে তার উদ্বেগ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। অতএব উভয় দেশ নিজেদের মধ্যে একটি ‘সবুজ সম্প্রীতি’ গড়ে তোলার পাশাপাশি মানুষ ও পৃথিবীর জন্য ভারসাম্যপূর্ণ টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে, থাইল্যান্ডও অধীর আগ্রহের সঙ্গে ২০২২–এর দিকে তাকিয়ে আছে, যখন অসংখ্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং সফর আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। এ বছরের জুলাই মাস থেকে থাইল্যান্ড পর্যায়ক্রমে বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে সব প্রকার ভিসার নিষেধাজ্ঞায় শিথিল করা হয়েছে। যাতে দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্প্রীতি এই নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় পুনঃস্থাপিত হয়।

করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং থমকে যাওয়ার আগে থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। উভয় পক্ষই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সক্রিয়ভাবে বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিবেচনাধীন অবস্থায় থাইল্যান্ডের আন্দামান উপকূল এবং বঙ্গোপসাগরের মধ্যে আরও সাশ্রয়ী সমুদ্র পরিবহনব্যবস্থা চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই নতুন সংযোগ স্থাপনে থাইল্যান্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে জোরালো সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

২০২২ সালে থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশ তাদের মধ্যে ৫০ বছরের দীর্ঘ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করবে। দুটি রাষ্ট্রই নিজেদের জনগণের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে গত পাঁচ দশকে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আসছে। থাইল্যান্ড অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র যে বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এবং নিজেদের মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ১৯৭২ সালের ৫ অক্টোবর। তখন থেকেই উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে নানা মাত্রায় ব্যাপক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ২০১৩ সালে শুরু করা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মধ্য দিয়ে।

যদিও মহামারি অবস্থায় মানবজাতি অনেক সম্ভাবনা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমাদের নিরাশ না হয়ে বেঁচে থাকার জন্য এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। নিশ্চয় এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তির পথ খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তবুও পারস্পরিক ঐক্যের ভিত্তিতে দৃঢ়ভাবে আমাদের জ্ঞান ও সক্ষমতার পুনর্ব্যবহার করতে পারলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব। তাই থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের মূলমন্ত্র হতে পারে ‘সবার মাঝে সবুজ সম্প্রীতি’।