বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: বহদ্দারহাটের এম এ মান্নান উড়ালসড়কের র‍্যাম্প নিয়ে এই জটিলতা কেন?

মাহমুদ ওমর ইমাম: বহদ্দারহাট উড়ালসড়কের এই র‌্যাম্প ডিজাইন করা হয়েছিল ওয়ানওয়ে (একমুখী)। অর্থাৎ আরাকান সড়ক থেকে আসা গাড়িগুলো র‍্যাম্পে উঠে শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কের দিকে চলে যাবে। কিন্তু এখন সেটি উভমুখী হয়ে গেছে। অর্থাৎ মুরাদপুরমুখী গাড়িগুলোও উঠছে। এতে ওভারলোডেড হয়ে গেছে। আবার এর মধ্যে মূল উড়ালসড়কের বিভাজক দেয়াল ভেঙে গাড়িগুলো চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটার জন্য তো নকশা করা হয়নি। কারণ, মূল নকশা হচ্ছে গাড়ি বাঁ দিকে যাবে। আর ডান দিকের গাড়ির জন্য আলাদা লুপ করার কথা ছিল। যেমনটি ২ নম্বর গেটে আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়কে করা হয়েছে। কিন্তু বহদ্দারহাট উড়ালসড়কে সেটি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।

প্রথম আলো: আসলে কি ফাটল হয়েছে? হলে কী কারণে হতে পারে?

মাহমুদ ওমর ইমাম: দেখে তো মনে হচ্ছে খুব সিরিয়াস। তবে কতটুকু গভীর এই ফাটল, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বলা যাবে। যদি ফাটল হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত সংস্কার করা উচিত। যত দেরি হবে, তত খরচ বেড়ে যাবে। আর লোহায় বাতাস লাগলে মরিচা ধরে যাবে। লোহার স্থায়িত্ব কমে যাবে। এই র‍্যাম্প নিয়ে আমার তিনটি পর্যবেক্ষণ আছে। প্রথমত, এখানে শুধু একমুখী গাড়ি চলার কথা। কিন্তু এখন এতে ডান-বাম দুদিকেই গাড়ি চলাচল করছে। দ্বিতীয়ত, এটির নকশা ভারী গাড়ি চলাচলের জন্য করা হয়নি। তৃতীয়ত, অবকাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছে। উড়ালসড়ক ও র‍্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত স্থানে কলাম হওয়ার কথা ছিল। সেটি না হয়ে ক্যান্টিলিভার (মূল কাঠামোর সঙ্গে সংযোগ করা অংশ) দিয়ে র‌্যাম্প আর উড়ালসড়ক যুক্ত করা হয়েছে৷ ফলে পুরো ভার এসে পড়েছে বিদ্যমান পিলারের ওপর। যেটি ক্যান্টিলিভারের জায়গায় পিলার থাকলে তা সমান ভাগে ভাগ হতো।

প্রথম আলো: এটি কি সিডিএর গাফিলতি? তারা মূল নকশা অনুসরণ করেনি?

মাহমুদ ওমর ইমাম: সিডিএ ঠিকভাবে নকশা অনুসরণ করেনি। তার এটা ভুল করেছে। তবে তাদের একার গাফিলতি বলে লাভ নেই। একবার সংসদীয় কমিটি এসেছিল। তখন তো বলেছিলাম, এভাবে করলে হবে না। ওখানে লুপ লাগবে। কিন্তু তারাও তো কিছু বলেনি। আমাদের কথা শোনেনি। তা না করে মূল উড়ালসড়কের সঙ্গে র‍্যাম্প জোড়া লাগিয়ে দিয়েছে। আর উড়ালসড়কের বিভাজক ভেঙে গাড়ি চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো: এভাবে উড়ালসড়কের বিভাজক ভেঙে সংযোগ দেওয়া যায়?

মাহমুদ ওমর ইমাম: এটি কখনোই হয় না। এর ফলে এটি এখন আর উড়ালসড়ক নেই। একে উড়ালসড়ক বলে না। তা রাস্তা হয়ে গেছে, এটি ইন্টারসেকশনে পরিণত হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, এত বড় ভুল কে করল? উড়ালসড়কের মধ্যে বিভাজক ভেঙে গাড়ি ঘোরানোর সুযোগ কেন দেওয়া হলো? এতে উড়ালসড়কের কনসেপ্ট থেকে পুরো সরে গেছে। বিভাজক ভেঙে দেওয়ায় গাড়ির চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু উড়ালসড়কে গাড়ির চলাচল নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে। গাড়ি থামতে পারবে না। কিন্তু এখানে তা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

প্রথম আলো: এখন করণীয় কী?

মাহমুদ ওমর ইমাম: এখনো সুযোগ আছে। ত্রুটি সংশোধন করা যেতে পারে। ডানমুখী গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। ভারী যানবাহন চলাচল করা যাবে না। এতে লোড কমে যাবে, ঝুঁকি কমবে।

default-image

প্রথম আলো: উড়ালসড়কের র‌্যাম্প-লুপ দিয়ে ভারী যানবাহন চলতে দেওয়া হয় না। এটা কীভাবে দেখছেন?

মাহমুদ ওমর ইমাম: সিডিএ এই কনসেপ্ট কেন নিল, তা বুঝলাম না। এটি ভুল কনসেপ্ট। উড়ালসড়কের র‍্যাম্প-লুপে ভারী যানবাহন উঠতে না পারলে এগুলো কেন নির্মাণ করা হয়েছে। এ সুযোগ রাখা দরকার ছিল। ভারী যানবাহন চলাচল করতে না দিলে উড়ালসড়কের পরিপূর্ণ সুফল আসবে না।

প্রথম আলো: এই উড়ালসড়কগুলো করার সময় কি আপনাদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল?

মাহমুদ ওমর ইমাম: আমাদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি। কখনো ডাকেনি। তারা নিজেদের মতো করে কাজ করেছে। এটা তো আরও খারাপ, বহদ্দারহাট উড়ালসড়ক করার জন্য সিডিএ আমাদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আলোচনাও শুরু হয়েছিল। তাই চুক্তি না করেই কাজ শুরু করেছিলাম। কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, এটি পুরোপুরি খিলগাঁও উড়ালসড়কের নকশা। আলোচনার সময় তা জানানো হয়েছিল। এরপর আমাদের আর ডাকে না। এখন কাকে দোষ দেব?

প্রথম আলো: নগরের যানজট নিরসনে উড়ালসড়কগুলো থেকে কতটুকু সুফল পাচ্ছে নগরবাসী?

মাহমুদ ওমর ইমাম: যেভাবে নকশা করা হয়েছিল, যেসব শর্ত ছিল, সে অনুযায়ী কাজ না হলে তো হবে না। এ ব্যাপারে আলোচনা দরকার। তারা কীভাবে করছে, তা বিস্তারিত বললে বিশ্লেষণ করতে সুবিধা। এখন বহদ্দারহাট উড়ালসড়কে র‌্যাম্প করার পর বলা হচ্ছে, বাস-ট্রাক উঠতে পারবে না। তখন তো বলেনি। ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারলে উড়ালসড়কে লাভ কী? এভাবে সবকিছু লুকালে তো সমস্যা থেকে যাবে। আমার কথা হচ্ছে, যারা বাস্তবায়ন করবে, তাদের সব পরিষ্কার করতে হবে। আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়কের ২ নম্বর গেট এলাকায় সন্ধ্যায় নিচের সড়কে ট্রাকের ভিড়ে যানজট লেগে থাকে।

default-image

প্রথম আলো: তাহলে এসবের দায় কে নেবে?

মাহমুদ ওমর ইমাম: তা আমি বলতে পারব না। তবে কাউকে না কাউকে দায় নিতে হবে।

প্রথম আলো: নগরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা হচ্ছে। এর কি সুফল আসবে?

মাহমুদ ওমর ইমাম: যদি নকশা অনুযায়ী কাজ করা হয়, তাহলে সুফল আসবে। আবার তা না করে এক রকম নকশার জায়গায় আরেক রকম কাজ করা হলো, তাহলে যা হওয়ার তা–ই হবে। কার্যকারিতা কমে যাবে। বহদ্দারহাট উড়ালসড়কে লুপ দেওয়ার কথা ছিল, তবে দেওয়া হয়নি। ফলে কার্যকারিতা অর্ধেক কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে যাতে এ রকম করা না হয়।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ
মাহমুদ ওমর ইমাম: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন