default-image

করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালত খোলা রাখার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ভার্চ্যুয়ালি সব কোর্ট চালু করা হলে আদালত প্রাঙ্গণে লোকসমাগম বাড়বে।

রোববার এক মামলার শুনানিকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগে ওই মামলার শুনানি হয়।

শুনানির একপর্যায়ে আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই কঠিন অবস্থার মধ্যেও আমরা কোর্ট খোলা রেখেছি। এপ্রিলের শুরুতে ঢাকা কোর্ট থেকে ভিডিও নিয়ে এসেছিলাম, আমরা সবাই শেয়ার করেছি। ঢাকা জজকোর্টে হাজার হাজার লোক। সবাই গায়ের সঙ্গে গা লাগানো। আমার কাছে এসব ভিডিও এখনো আছে।

বিজ্ঞাপন

আমরা কী করব? আমরা যদি এখানেও ভার্চ্যুয়ালি সব কোর্ট ওপেন করি, আমাদের এখানেও অন্তত প্রতিদিন তিন হাজার লোকের সমাগম হবে।’

এ সময় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, ইন্ডিয়ান সুপ্রিম কোর্টে এক দিনে করোনায় তিনজন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মারা গেছেন।

‘আমরা কী করব’—এমন প্রশ্ন রেখে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের কোর্টের ভেতরে জায়গা হয় না। মানুষ এসে ঈদগাহে বসে থাকে, কোর্টের বিভিন্ন জায়গায় বসে থাকে। এখন যদি ভার্চ্যুয়ালি সব কোর্ট ওপেন করি, অন্তত প্রতিদিন তিন হাজার লোক আসবে। আমরাও তো চাই কোর্ট চলুক। মানুষের আর্জেন্সি আছে, যেসব বিষয়ে আর্জেন্সি আছে, অবশ্যই আমরা শুনব।’

আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ঢাকা কোর্টের ভিডিও দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।’ ওই মামলায় রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ বলেন, পত্রিকার খবর দেখে বা বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে তিনিও বিভিন্ন জায়গায় অনেক লোকসমাগমের বিষয়ে জেনেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ওই দিন ঢাকা কোর্টে ন্যূনতম ৫০ হাজার লোক ছিল। আমি তো খুলতে চাই, সবগুলো ভার্চ্যুয়ালি করবে, সবাই বাসায় বসে কোর্ট করবে। কিন্তু লোকজন যে চলে আসে। এফিডেভিট করতে আসবে, এটা করতে আসবে, সেটা করতে আসবে। আমাদের ল ইয়ারদেরও তো সাংঘাতিক অসুবিধা।’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে যুক্ত ছিলেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সপ্তাহে তিন দিন এবং চেম্বার আদালতে দুই দিন ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ চলছে। হাইকোর্টের পৃথক ৯টি ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চে বিচারকাজ চলছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন