আজ শনিবার ফাল্গুনের দ্বিতীয় দিন। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। পয়লা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস—পিঠাপিঠি এ দুই দিনকেই আপন করে নিয়েছে তরুণ প্রজন্ম।
ফাগুনে গাছে গাছে ফুটেছে শিমুল ও পলাশ। প্রকৃতি সেজেছে বাহারি রঙে। আর নগরে বসন্ত এসেছে তরুণ-তরুণীর বেশভূষায়। এই উৎসবের আমেজ থাকবে আজও। ভালোবাসার দিবসে। ইতিহাসে যা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে নামে পরিচিত। এর প্রচলন পশ্চিমের দুনিয়ায়, বহু আগে। এর হাওয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। এখন তা বাঙালির বসন্ত দিনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।
ভালোবাসার এই দিনের উৎসব শুরু হয়ে গেছে গতকাল শুক্রবার থেকেই। ফুল আর উপহারসামগ্রীর দোকানগুলোতে ভিড় জমেছে। মুঠোফোনে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আগাম শুভেচ্ছা শুরু হয়েছে গত রাত থেকেই। আজ দিনভর রেস্তোরাঁয়, পার্কে, শপিং মলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, রাজপথে থাকবে তরুণ-তরুণীদের ভিড়।
আজকের এই ভালোবাসা দিবসের পেছনের যে গল্প, তা আত্মদানের গল্প। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য এমন, রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস-২ (মে ২১৩-জানুয়ারি ২৭০) সেনাবাহিনীতে লোকবল বাড়াচ্ছেন। হঠাৎ তিনি ঘোষণা দিলেন, কোনো যুবক আর বিয়ে করতে পারবেন না। এই অদ্ভুত ঘোষণার বিরোধিতা করে সন্ত ভ্যালেন্টাইন গোপনে যুবকদের বিয়ের আয়োজন চালিয়ে যেতে লাগলেন। একসময় ধরা পড়ে গেলেন ভ্যালেন্টাইন, নিক্ষিপ্ত হলেন কারাগারে। এর মধ্যে ভ্যালেন্টাইন মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছেন কারারক্ষীর মেয়েটিকে। এর কিছুদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি সম্রাটের নির্দেশে ভ্যালেন্টাইনের শিরশ্ছেদ করা হয়। কথিত আছে, ওই দিনই প্রথম তিনি মেয়েটিকে এক চিঠিতে জানান তাঁর ভালোবাসার কথা। চিঠির নিচে লেখেন, ‘ইতি, তোমারই ভ্যালেন্টাইন’।
দিনটিকে ইউরোপে পরিচিত করে তোলেন জিওফ্রে চসার চতুর্দশ শতকে। পরে এর ব্যাপ্তি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পৌঁছায় চীন, জাপান, ভারত ও বাংলাদেশের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও। বাংলাদেশে দিনটিতে ফুলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা আনন্দ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। দেশে চলমান অস্থির পরিস্থিতিতেও এবার এর ব্যতিক্রম হবে না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন