খাগড়াছড়ি জেলায় ২০–দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালের প্রভাব না থাকলেও চলছে না দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক। জেলার অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতেও কমে গেছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। ফলে জেলার প্রায় দেড় হাজার পরিবহনশ্রমিক একরকম বেকার দিন কাটাচ্ছেন।
খাগড়াছড়ি পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সাতটি সমিতির অধীনে ২০০টি বাস, ২৫০টি ট্রাক, ২০০টি জিপ ও ৬০ থেকে ৭০টি পিকআপ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশিঢাকা, চট্টগ্রাম ও ফেনী রুটে চলাচল করে।
জেলার অভ্যন্তরে হরতাল–অবরোধের প্রভাব না থাকলেও যাত্রী কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে শহর থেকে দিনে ৮০ থেকে ৯০টি ট্রাক ছেড়ে গেলেও এখন তা ১০টির নিচে নেমে এসেছে। এ ছাড়া প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার বাস প্রতি ৪০ মিনিট অন্তর ছেড়ে যায়। তবে এখন সব মিলিয়ে তিন–চারটি বাস ছাড়ছে।
খাগড়াছড়ি সদরের গঞ্জপাড়ার বাসিন্দা বাসচালক মো. জিয়ার পরিবারের সদস্য ছয়জন। ফেনী–খাগড়াছড়ি রুটে বাস চালিয়ে দৈনিক ৮০০ টাকা বেতন পান তিনি। তবে এখন নিয়মিত গাড়ি না চলায় তাঁর বেতনও বন্ধ। যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাস চললেও আয় হয় আগের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ রণজিৎ দে জানান, হরতাল–অবরোধ কর্মসূচির শুরু হওয়ার পর থেকে খাগড়াছড়ি জেলার পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খাগড়াছড়িতে প্রতিদিন এই খাতে গড়ে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনোতোষ ধর জানান, আন্দোলনের কারণে পরিবহনমালিকদের আয় নেই। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না তাঁরা। এর মধে্যও কিছুসংখ্যক ট্রাক চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। বেড়েছে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন