২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী অঙ্কন ২০২১ সালে প্রকাশিত ফলাফলে স্নাতকে প্রথম হয়েছিলেন। ছিলেন ভালো বিতার্কিক। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

অঙ্কনের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বুধবার সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বালন করে সহপাঠী বন্ধুরা ঘটনার বিচার দাবি করেন। বৃহস্পতিবার সকালেও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে একটি মানববন্ধন করেন তাঁরা।

default-image

শিক্ষার্থীরা জানান, বিতর্কের সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও আইন বিভাগের ২০১১-১২ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদের সঙ্গে অঙ্কনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মার্চ মাসে অঙ্কন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শাকিলকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর দুজনের মধ্যে নানা বিষয়ে ঝামেলা দেখা দেয়। মাঝেমধ্যে অঙ্কন কিছু বিষয় বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অঙ্কনের সহপাঠীরা বলেন, গত ২৩ এপ্রিল অঙ্কনের বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে অংশ নেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরদিন সকালে যাত্রাবাড়ীতে শাকিলের বাসায় যান অঙ্কন। সেখানে একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি।

এরপর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অঙ্কনকে। অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাঁকে। আইসিইউর চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অঙ্কনের পরিবারকে সাহায্য করতে সহপাঠীরা অর্থসহায়তাও তুলছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে শাকিল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিক দিন কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। সেই পোস্ট বৃহস্পতিবার তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়নি।

এদিকে অঙ্কনের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলতে চাননি কেউ। পরিবারের বরাতে সহপাঠীরা জানান, আর্থিক ও আইনি ঝামেলার কারণে তাঁরা মামলা করছেন না।

মানববন্ধনে সহপাঠী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত ছাড়া একজন মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা চাপা পড়ে যাবে, এমনটা হতে পারে না। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। পরিবার যদি মামলা না–ও করতে চায়, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হোক। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য কামালউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাই সত্য ঘটনাটি সামনে আসুক। আমাদের থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদ আল মামুন বলেন, ‘ছাত্রী মারা যাওয়ার পর আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু তারা কোনো অভিযোগ জানাতে চায়নি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন