বিজ্ঞাপন

আলফাই বলেন, তাঁকে প্রথমে ভারত নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দিল্লি থেকে করানো হয় ক্রোয়েশিয়ার ভিসা। পরে ফ্লাইটে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ক্রোয়েশিয়া পৌঁছান। কথা ছিল মাসিক ৫৫

হাজার টাকা বেতনে রেস্তোরাঁয় দেবে। কিন্তু সেই চাকরি তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দালালেরা তাঁকে স্থল অথবা জলপথে ইতালি যেতে

প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি যেতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতন বাড়তে থাকে। তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পরিচিত এক বাংলাদেশির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তাঁর দেশে আসার সব ব্যবস্থা করে দেয়।

র‌্যাব-৩–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচারকারীরা প্রথমে ভুক্তভোগীকে ৪৫ দিনের টাইপ সি-১ ভিসা দেন। ভিসার মেয়াদ শেষের এক দিন আগে তাঁকে বিক্রি করে দেয়। মানব পাচারকারীদের থেকে মুক্ত হতে দেশে ফেরার জন্য কামরুল হাসানকে জানালে তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ক্রোয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে করা মানব পাচার আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা র‌্যাবের কাছে মানব পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোন ও ল্যাপটপে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে গ্রেপ্তার কামরুল ও মঈনুলের বড় ভাই জিয়াউল হাসান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই কামরুল হাসান চৌধুরী ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে কাজ করেন। আট লাখ টাকার চুক্তিতে আলফাই আল হোসাইনকে ক্রোয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। তাঁর সঙ্গে যাবতীয় চুক্তির কপি তাঁদের কাছে রয়েছে। সেখানে যে ভিসায় গিয়েছেন, তা–ও চুক্তিতে ছিল। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তাঁর থেকে দুই লাখ চার হাজার টাকা পাওনা ছিল।

সেই টাকা দিতে গড়িমসি করতে থাকায় ১২ মে ভাইয়ের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল ওই টাকার বিষয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে রাতে র‍্যাবের সদস্যরা তাঁর দুই ভাইয়ের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেন। তারপর ভাইদের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এরপর তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় আলফাই আল হোসাইন বাদী মানব পাচার আইনে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন