বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়োনিষ্কাশন, চিকিৎসা, মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম ও ভাষায় অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবিকায়নের ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশ সরকার সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ও কর্মরত জাতিসংঘ এবং এর সহযোগী সংস্থা ও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয় দেখাশোনা করবে।

এ ছাড়া ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারণে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় এলাকা ও জনগণের ওপর যদি প্রভাব পড়ে, তা নিরসনে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

অনুষ্ঠানে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১-১৯৯২ সাল থেকে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এবং এর পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১১ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তার কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে করা হচ্ছে। জনসংখ্যার অতি ঘনবসতি ও পরিবেশের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এক লাখ মিয়ানমার নাগরিককে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভাসানচর কিংবা কক্সবাজারে মিয়ানমারের নাগরিকদের থাকার যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা সাময়িক। আমাদের মূল লক্ষ্য, মিয়ানমারের এসব বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। সুতরাং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ও অন্যান্য দেশের সার্বিক সহায়তায় প্রত্যাবাসনের কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভাসানচরে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর হবে।

ত্রাণসচিব মো. মোহসীন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ২০১৮ সালে গঠিত টেকনিক্যাল অ্যান্ড প্রোটেকশন সাব কমিটির সুপারিশ মোতাবেক আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ মিয়ানমার নাগরিকের বসবাসের জন্য ভাসানচরে ১ হাজার ৪৪০টি আশ্রয়গৃহ এবং ১২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর থেকে সবশেষ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ হাজার ৭২৪টি পরিবারের ১৮ হাজার ৮৪৬ জন নাগরিককে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৮০ হাজার নাগরিককে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। স্থানীয় ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক এনজিওর সহযোগিতায় ভাসানচরে স্থাপনাগুলোতে মিয়ানমারের নাগরিকদের খাবার এবং অন্যান্য খাদ্য বহির্ভূত দ্রব্যসামগ্রী দেওয়ার মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলছে।

মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা দেওয়া সহজ হয়েছে। এ জন্য তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই সমঝোতা স্মারকের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের উদারতা ও সহায়তা আবারও প্রতিফলিত হলো। পাশাপাশি এ দেশে আশ্রিত প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চালু রাখার প্রত্যয়ও আরেকবার ফুটে উঠেছে।
ভাসানচরবিষয়ক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সেবা ও কার্যক্রমে সরকার ও জাতিসংঘের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সম্ভব হবে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সুরক্ষা, শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, জীবিকা ও স্বাস্থ্যসেবা; এর মাধ্যমে শরণার্থীরা দ্বীপে মানসম্মত জীবন যাপন করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য চলমান মানবিক কার্যক্রমের এ বছরের যৌথ পরিকল্পনায় এখন পর্যন্ত অর্ধেকের কম অর্থায়ন হয়েছে। চলমান সহায়তা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জাতিসংঘ আহ্বান জানিয়েছে। এ দেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আকাঙ্ক্ষা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার তাদের সেই চাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে; আর এটি যত দিন সম্ভব না হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত এই সহায়তা চলবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন