দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, বিদ্যমান চিহ্নিতকরণ ফরমের পাশাপাশি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে তাঁর মুখের ছবি যুক্ত করতে হবে।

রায়ে বলা হয়, সারা দেশের সব পুলিশ স্টেশনে বিদ্যমান ক্রাইম ডেটা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে (সিডিএমএস) আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গার প্রিন্ট, হাতের তালুর ছাপ (পাম প্রিন্ট), চোখের মণি (আইরিশ) স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা যুক্তসহ বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে হবে।

দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, বিদ্যমান চিহ্নিতকরণ ফরমের পাশাপাশি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে তাঁর মুখের ছবি যুক্ত করতে হবে। মুখের ছবি সমন্বিত তথ্যভান্ডারে আপলোড করতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁর মুখের ছবি ধারণ করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত।

রায়ে আরও বলা হয়, দেশের সব কারাগারে আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গার প্রিন্ট, হাতের তালুর ছাপ (পাম প্রিন্ট), চোখের মণি (আইরিশ) স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা যুক্তসহ বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে হবে।

রাজধানীর খিলগাঁও থানায় নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। এই মামলা সূত্রে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ২০২০ সালে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ মার্চ হাইকোর্ট রুল দিয়ে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে নোয়াখালীর জহির উদ্দিন ওই মামলার প্রকৃত আসামি কি না, তা তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, জহির উদ্দিনকে খিলগাঁও থানার মামলায় (নম্বর-১২(৪)১৩) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য–প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জহির উদ্দিন প্রকৃতপক্ষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাধারী ব্যক্তি নন, প্রকৃত আসামি মোদাচ্ছের আনছারী ওরফে মোহাদ্দেস।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি মঙ্গলবার হাতে পেয়েছেন বলে জানান জহির উদ্দিনের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারি পরেয়ানা অবৈধ ঘোষণা করে জহির উদ্দিনকে মামলার দায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (মোদাচ্ছের আনছারী ওরফে মোহাদ্দেস) গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বাস্তবায়ন হলে দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা বা জেলে রাখার ঘটনা থেকে নিষ্কৃতি পাবে বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

যে কারণে রিট

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল নাশকতার মামলাটি করা হয়। পরে পুলিশ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে মোদাচ্ছের আনছারীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মোদাচ্ছের তাঁর নাম-ঠিকানা গোপন করে নিজেকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আজগর আলী মোল্লাবাড়ি মসজিদ রোড এলাকার মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নামে পরিচয় দেন। এরপর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর মোদাচ্ছের জামিন পেয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি জহির উদ্দিন নামেই আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন।

জহির উদ্দিনসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর জহিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন প্রকৃত জহির উদ্দিন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন