ভেজাল সার বিক্রির দায়ে রাজশাহীর বাগমার উপজেলার মাদারীগঞ্জ বাজারের এক সার ব্যবসায়ীর গুদামের ২৭০ বস্তা সার ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ল্যাবে পরীক্ষার পর ভেজাল সার প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গতকাল রোববার সান্টু হোসেন নামের ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন। আর ভেজাল সার নষ্ট করে ফেলেন।

স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের সান্টু হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মাদারীগঞ্জ বাজারে সারের দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি আসল সারের পাশাপাশি ভেজাল সারও বিক্রি করেন। সম্প্রতি এক ট্রাক ভেজাল সার তাঁর গুদামে রাখা হয়েছে বলে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তা ওই দোকানে গিয়ে ভেজাল সার রাখা এবং বিক্রির বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চান। তিনি এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তাঁর গুদামের বস্তা থেকে টিএসপি সারের নমুনা সংগ্রহ করে প্রশাসন। সেই সঙ্গে গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়।

নমুনা পরীক্ষার ফলে জানা যায়, এগুলো ভেজাল সার। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত সান্টু হোসেনের উপস্থিতিতে সিলগালা করা গুদাম খুলে ২৭০ বস্তা সার পাশের ডোবায় ফেলে দেন। অপরাধ স্বীকার করায় ইউএনও শরিফ আহম্মেদ তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান বলেন, এসব ভেজাল সার জমিতে ব্যবহারের ফলে কৃষকের ফলনে কোনো লাভ হয়নি। চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, ল্যাবের প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে ৪৬ শতাংশ ফসফেট থাকার নিয়ম থাকলেও সেখানে রয়েছে শূন্য শতাংশ। পুরো সারই ভেজাল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন