বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে ভূমি ভবন ছাড়াও ১২৯টি উপজেলা ও ৯৯৫টি ইউনিয়নের ভূমি অফিস, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ কার্যক্রম এবং ভূমি ডেটা ব্যাংকের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে শতভাগ মিউটেশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে ভূমিব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কেননা, মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন। মানুষকে যেন ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াতে না হয়। ভূমি সেবা যেন হাতের মুঠোয় পায়, সেই ব্যবস্থাই আমরা করতে চেয়েছি।’ তিনি জানান, হাতের মুঠোয় ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে অনলাইনে খতিয়ান সংগ্রহ, উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর, অনলাইন ডেটাবেইসসহ ভূমি সেবার সব ক্ষেত্রে অধিকতর ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ই-মিউটেশন বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ভূমি মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের এ পুরস্কার বাংলাদেশে এই প্রথম। এ স্বীকৃতি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে আরও গতিশীল করেছে এবং বিশ্ব দরবারে আমাদের মর্যাদা অধিকতর সুসংহত হয়েছে।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ভূমি সংস্কার বোর্ড, ভূমি আপিল বোর্ড এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ঢাকা শহরের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অবস্থিত। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ছাড়াও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যালয় ও একটি আধুনিক রেকর্ড রুমের সংস্থান এ ভূমি ভবন কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ওই অফিসগুলো একই ভবনে অবস্থানের ফলে ভূমিসংক্রান্ত সেবাদান ও সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজতর হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের আগে তো অনেকেই ক্ষমতায় এসেছে। কেন এ ব্যাপারে কোনো সংস্কার করা হয়নি, সেটাই বড় প্রশ্ন।’ এ সময় তিনি ২০১৩ এবং এর পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা এবং ভূমি অফিস পুড়িয়ে রেকর্ড বিনষ্টের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভূমি ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু বিএনপি–জামায়াত জোট ২০১৩ সালে অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেকগুলো ভূমি অফিস জ্বালিয়ে–পুড়িয়ে দেয়।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘তারা শুধু ভূমি অফিস পোড়ায়নি, চলন্ত বাসে যাত্রীরা যাচ্ছে, সেখানে নারী, পুরুষ, শিশু—সবাই রয়েছে। সেই বাসে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে মেরেছে। সিএনজি চালিয়ে যাচ্ছে ড্রাইভার, তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। গাড়ির ভেতর থেকে ড্রাইভারকে টেনে বের করে তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। প্রায় ৬টি ভূমি অফিসসহ অনেক ভূমি অফিস তারা নষ্ট করে দেয় এবং সেগুলো পুড়িয়ে দেয়।’ ভূমি অফিস পোড়ানো বন্ধে তাঁর কঠোর হুঁশিয়ারির পর সেটা বন্ধ হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসলে বিএনপি–জামায়াত তো আর মানুষের জন্য কাজ করে না। তারা ক্ষমতায় এসেছিল অবৈধভাবে দখলকারীর হাত দিয়ে। একটা মিলিটারি ডিক্টেটরের হাতে তৈরি করা এই সংগঠন। কাজেই মানুষের প্রতি এদের কোনো দায়িত্ববোধও নেই, দেশের জন্যও নেই। ক্ষমতায় থেকে টাকা বানানো, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি—এটাই তাদের কাজ এবং সেটাই তারা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, কর্মকর্তা–সংকটের কারণে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা একসময় দুরূহ ছিল, যেটা তাঁর সরকার দূর করেছে। তিনি বলেন, প্রায় শতভাগ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন এবং তাদের যানবাহনের সুবিধা প্রদান করায় বর্তমানে ভূমি প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে অনলাইনে খতিয়ান সংগ্রহ করার সিস্টেম বাস্তবায়ন করেছে। জমির মালিক ঘরে বসেই খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারছে। সারা বাংলাদেশের প্রায় ৪ কোটি ৯২ লাখ ডিজিটালাইজড খতিয়ান নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভার্চ্যুয়াল রেকর্ডরুম। এই ভার্চ্যুয়াল রেকর্ডরুম থেকে বিনা পয়সায় যে কেউ তার কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারছে।’

এ প্রসঙ্গে সারা দেশে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং পোস্ট অফিসগুলোকে তাঁর সরকারের ডিজিটালাইজড করে দেওয়ার কথাও সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন।

সারা বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি হোল্ডিংয়ের মধ্যে প্রায় এক কোটি হোল্ডিংয়ের ডেটা এন্ট্রির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট হোল্ডিং এন্ট্রির কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একজন নাগরিক যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় ভূমি উন্নয়ন কর–সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন।

অনলাইনে তা পরিশোধ করতে পারবেন এবং অনলাইনে দাখিলা পেয়ে যাবেন। এতে তাঁদের সময় ও খরচ বাঁচবে এবং জনগণ হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসের মৌজাভিত্তিক সব তথ্যও সংরক্ষিত থাকবে বিধায় নির্ভুলভাবে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সর্বোপরি অর্থ বিভাগের অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে আদায়কৃত ভূমি উন্নয়ন কর সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে। তিনি বলেন, ‘ফলে অতীতে ভূমি উন্নয়ন কর সরাসরি জমার বিধান না থাকায় কিছু যেত কিছু যেত না। এখন আর সেটা হবে না।’

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ভূমিসচিব মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন