‘চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শেষ কবে ভোট দিছিল্যাম, তা মনে পড়ে না। তবে তখন আমার জওয়ান বয়স ছিল। ভোটের জন্য আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতেছি। এবার মনে হয় অপেক্ষার পালা শেষ। ভোটের তারিখ ঘোষণা করায় আমরা সগলেই খুশি।’
ভোটের প্রসঙ্গ উঠতেই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের পুণ্ডুরিয়া গ্রামের মোজাম্মেল হক (৬০) এসব কথা বলেন। প্রায় ২০ বছর পর করমজা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় তাঁর মতো ইউনিয়নের সবাই খুশি।
করমজা ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করমজা ইউপির শেষ নির্বাচনটি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এরপর ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আদেশে ওই ইউনিয়নের করমজা হাটসহ কিছু অংশ বেড়া পৌরসভার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে ২০০২ সালে উচ্চ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা হলে সীমানা নিয়ে জটিলতা েখা দেয়।
এতে করমজা ইউনিয়ন ও বেড়া পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১১ সালের ৭ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ করমজা হাটসহ করমজা ইউনিয়নের আমাইকোলা, দত্তকান্দি ও করমজা নিশিবাড়িকে বেড়া পৌরসভারই অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে রায় দেন। ফলে করমজা ইউনিয়ন ও বেড়া পৌরসভার নির্বাচনের পথ খুলে যায়। এরই মধ্যে গত বছরের ৭ আগস্ট বেড়া পৌরসভার নির্বাচন হয়। এরপর থেকেই করমজা ইউনিয়নবাসী অপেক্ষা করছিলেন নির্বাচনের।
অবশেষে নির্বাচন কমিশন ৮ মার্চ তাদের ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে করমজা ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল এ ইউনিয়নে ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২০ মার্চ, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই ২১ মার্চ ও প্রত্যাহার ২৮ মার্চ।
এদিকে ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দুই থেকে তিন বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েকজন নেতা। তাঁদের কেউ কেউ দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য স্থানীয় পত্রিকায় ধারাবাহিক বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কেউবা বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন।
সম্প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটে অংশ নেন। এতে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হোসেন আলী বাগচী সর্বোচ্চ ভোট পান।
করমজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ নান্নু বলেন, ‘আমি নিজেও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের ভোটে আমি তৃতীয় হয়েছি। যিনি প্রথম হয়েছেন, দল হয়তো চেয়ারম্যান পদে তাঁকেই মনোনয়ন দেবে।’
এদিকে বিএনপি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রইজউদ্দিনের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। রইজউদ্দিন বলেন, প্রায় তিন মাস আগেই ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বৈঠক করে তাঁর মনোনয়নের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন। তবে গত বুধবার তাঁর বাড়িতে এক বৈঠকে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে তাঁর দলীয় প্রার্থিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দলিল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর করমজা ইউপির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন