টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে সদস্য প্রার্থী ঠিক করেছেন গ্রামবাসী। গতকাল শুক্রবার উপজেলার উয়ার্শী ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন কহেলা গ্রামবাসীর উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে এ ভোট হয়।
গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই ইউপির নতুন কহেলা, নবগ্রাম ও নাগরপাড়া গ্রাম নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এবার ওয়ার্ডের সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রতিটি গ্রামেরই দুজন করে প্রার্থী হয়েছেন। নতুন কহেলা গ্রামের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আলী আজম খান ও মো. মাসুদুল হক খান গত বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবার দুজন করে প্রার্থী থাকায় ২৫ বছর ধরে ওই গ্রাম থেকে কেউ ইউপি সদস্য নির্বাচিত হননি। এ কারণে এবার একজন প্রার্থী ঠিক করতে গ্রামবাসী গতকাল সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নেন। এতে সহযোগিতা করেন গ্রামটির সেবামূলক সংগঠন নতুন কহেলা সবুজ সংঘের সদস্যরা। ২৮ মে পঞ্চম ধাপে মির্জাপুরের আটটি ইউপিতে ভোট হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন কহেলা সবুজ সংঘের কার্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে গ্রামের ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রের ভেতর রাখা হয়েছে দুটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। দুই প্রার্থীর ছবি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ব্যালট পেপার। দায়িত্বরত প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা ভোটার তালিকা দেখে ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে দিচ্ছেন।
কেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত গ্রামের বাসিন্দারাও ভোট দিতে এসেছেন। গাজীপুর থেকে আসা ইউসুফ আলী খান বলেন, গ্রামের একজন প্রার্থী ঠিক করতে তিনি ভোট দিতে এসেছেন। ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুর রউফ খান বলেন, ‘সঠিক প্রার্থী বেছে নিয়ে একটি সফল নির্বাচন করতে আমাদের এই উৎসবের আয়োজন।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. মাসুদুল হক খান বলেন, হার-জিত বড় কথা নয়। বিজয়ী না হলেও গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তকেই তিনি মেনে নেবেন। অন্য প্রার্থী আলী আজম খান বলেন, ‘গ্রামের সম্পর্কে আমরা দুজন চাচা-ভাতিজা। গ্রামের আত্মীয়স্বজনের সিদ্ধান্তে নির্বাচন অইত্যাছে। ভাইস্তা জয়ী অইলে আমি তার নির্বাচন করুম।’
নির্বাচনে ৩২৮ জন ভোটারের মধ্যে ২৯১ জন ভোট দেন। এতে আজম খান ১৫৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। দুপুর পৌনে একটায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নতুন কহেলা সবুজ সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, একাধিক প্রার্থী থাকায় ২৫ বছর ধরে তাঁদের গ্রাম থেকে কেউ ইউপি সদস্য নির্বাচিত হননি। তাই ভোটের এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম খান বলেন, ‘গ্রামের প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অক্ষুণ্ন রাখার জন্য এ ভোটের আয়োজন ছিল। আশা করছি, প্রক্রিয়াটি দেশে মডেল হয়ে থাকবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন