শীতে কাঁপছে ভোলা। এখানে কয়েক দিন ধরে দুপুরের আগে সূর্যের দেখা মিলছে না। গরম কাপড়ের অভাবে খুব কষ্ট পাচ্ছে হতদরিদ্র মানুষ।
শীতে বৃদ্ধ ও শিশুর শীতজনিত ডায়রিয়া, আমাশয়, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগ বাড়ছে। এসব রোগে জেলায় ১০ দিনে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ নেই বলে রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন।
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে।
ভোলা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বর এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ৩৫৫ জন শিশু এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৩৮ জন শিশু ও বৃদ্ধ ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন শিশু মারা গেছে। গতকাল সোমবার হরতালের দিনে ভোলা সদর হাসপাতালে ৪০ জন রোগী ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২টি ও শিশু ওয়ার্ডে ১০টি শয্যা আছে। কিন্তু সেখানে ৫০ জনের বেশি শিশু রোগী ও তার পরিবার গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে। মেঝেতেও স্থান নেই।
রোগীর কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, ভোলা সদর হাসপাতাল ও সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুর অভিভাবক দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের আবুল হোসেন জানান, ভোলা সদর হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় শিশুরা ভালো চিকিৎসা পাচ্ছে না।
সরেজমিনে সদর উপজেলার রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া, ভেলুমিয়া এবং দৌলতখান উপজেলার মদনপুর এলাকায় দেখা যায়, গরিব লোকজন খড়কুটায় আগুন জ্বালিয়ে শরীর উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পল্লিচিকিৎসক আমির হোসেন জানান, ঠান্ডায় ঘরে ঘরে শিশুদের সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া দেখা দিচ্ছে।
দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাঁর উপজেলায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তাদের অনেকের গরম কাপড় নেই। তাঁরা মাত্র ২-৩ শতাংশ লোকের জন্য গরম কাপড় সরবরাহ করতে পেরেছেন।
ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা কুমার বিশ্বজিৎ পাল ও লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার জানান, শিশুরা মারা যাচ্ছে জন্মজনিত রোগে। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়া একটি কারণ মাত্র। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ বেশি ভর্তি হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন তাঁরা।
তবে সিভিল সার্জন ফরিদ আহমেদ জানান, ভোলা সদর হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ছুটিতে আছেন। আর অন্য উপজেলায় এ পদ শূন্য রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা জানান, সরকারিভাবে ভোলায় আট হাজার কম্বল এসেছে। এ ছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সদর উপজেলায় ১৫ হাজার কম্বল বিতরণ করেছেন। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। এ জন্য প্রতিটি সভা-অনুষ্ঠানে স্থানীয় ধনীদের গরম কাপড় বিতরণ করতে বলা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন