ভোলায় মৎস্য কার্যালয়ে লোকবলের সংকট চলছে। জেলার মাছচাষি ও খামারিরা অভিযোগ করেছেন, মৎস্য দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না।
ভোলা জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভোলায় সাগর মোহনা ছাড়াও চারটি নদী, ৭০ হাজার পুকুর, দেড় হাজার কিলোমিটার খাল, ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ ও শিকার করা হয়। এ ছাড়া ৭০টি ইউনিয়নে তিন শতাধিক বাণিজ্যিক খামার ও দুটি সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে।
চার উপজেলার ১০ জন মাছচাষি বলেন, অজানা ভাইরাস আক্রমণ করলে খাবার ও ওষুধ ব্যবসায়ীরা যা ব্যবহার করতে বলেন, তা-ই চাষিরা ব্যবহার করেন। মাঠে দক্ষ পরামর্শক নেই। মাছচাষিরা বলেন, ভোলার জেলা-উপজেলায় যে মৎস্য দপ্তর আছে, সেগুলোতে কী সেবা আছে, তা-ই তাঁরা জানেন না।
কাচিয়াকাঠির মাথা এলাকার মাছচাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ঝড়-বন্যায় খামারিদের ক্ষতি হয়। মৎস্য বিভাগ তাঁদের সাহায্য করা তো দূরের কথা, দেখতেও যান না। ক্ষতির পরিমাণ না জেনে আন্দাজে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠান।
মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বছরের আট মাস (নভেম্বর থেকে জুন) জাটকা ও চিংড়ি রেণু সংরক্ষণ এবং ১৫ দিন মা ইলিশ ও কাঁকড়া সংরক্ষণ, সারা বছর অবৈধ জালমুক্ত জলাশয় সৃষ্টির কাজ করেন। মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস প্রায় ২৯০ কিলোমিটার জলসীমানায় মাছের অভয়াশ্রম বাস্তবায়ন, বদ্ধ জলাশয়, জেলে ও মৎস্য খামার উন্নয়ন, মৎস্য ভিজিএফ বিতরণ, জেলে কার্ড তৈরি, উন্নত পোনা ও বীজ উৎপাদন, প্রশিক্ষণসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।
মৎস্য কার্যালয় থেকে আরও জানা যায়, এ কার্যালয়ের জন্য একজন করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার (জরিপকারী), হিসাবরক্ষক, প্রধান দপ্তর সহকারী ও দপ্তর সহকারীর পদ আছে। রয়েছে পিয়নের দুটি পদ। কিন্তু এখন কার্যালয়ে সার্ভেয়ার, হিসাবরক্ষক, প্রধান দপ্তর সহকারী ও একটি পিয়নের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে সহকারী প্রকৌশলীকে পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া রয়েছে।
জেলায় সাতটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পদের দুটি শূন্য। সাতটি সহকারী মৎস্য কমকর্তা পদের দুটি খালি। বাকি পাঁচজনের একজন প্রেষণে অন্য স্থানে কর্মরত রয়েছেন। সাতটি ক্ষেত্র সহকারীর পদ থাকলেও একটি পদ শূন্য। সাতটি দপ্তর সহকারী পদের তিনটি পদ খালি। এ ছাড়া দুটি মৎস্যবীজ উৎপাদনকেন্দ্রেও রয়েছে লোকবলের সংকট। দুটি খামার ব্যবস্থাপকের পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি দপ্তর সহকারীর একটি পদও খালি।
ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এস এম বাহাউদ্দিন বলেন, লোকবলের সংকটে সরকারি খামার দুটি অলস পড়ে আছে। বখাটেরা বীজ উৎপাদনকেন্দ্রকে মাদকের আড্ডাখানায় পরিণত করেছে।
উপজেলার শান্তিরহাটের মৎস্যচাষি মাকসুদুর রহমান বলেন, গত ২৫ বছর খামারে বসে সরকারি মৎস্য কর্মকর্তাদের কোনো রকম সাহায্য পাননি। তিনি জানান, মৎস্য খাবার তৈরির যাবতীয় কাঁচামাল ভোলায় আছে। কিন্তু প্রশিক্ষণের অভাবে খামারিরা কম মূল্যে খাবার বানাতে পারছেন না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিশ কুমার মল্লিক বলেন, ভোলার মতো একটি মৎস্যনির্ভর জেলায় মাত্র সাতজন ক্ষেত্র সহকারী, যেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে একজন ক্ষেত্র সহকারী দরকার। ১৪ জন কর্মকর্তার পদও পূরণ করতে হবে। কয়েকবার লিখিতভাবে পদ বাড়ানোসহ শূন্য পদ পূরণের আবেদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন