বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, গণপরিবহনে নারীর প্রতি হয়রানিসহ বিভিন্ন নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কার্যকর শিক্ষার মধ্যে মূল্যবোধের বিষয়টি থাকতে হবে। যে করেই হোক নির্যাতনের ঘটনা চেপে যাওয়ার সংস্কৃতি ভাঙতে হবে।

সহিংসতা প্রতিরোধ বা ভয়কে জয় করার জন্য পরিবারের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘বাবা পাশে ছিলেন বলে আমার মা সেই সময়ে মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর আমি কয়েক দিন ঘরে বসে ছিলাম। তখন বাবা বলা শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিট নষ্ট করেছি, তারপর কাজে লেগে যাই। এর আগে এমসি কলেজে পড়ার সময় নাটকে অভিনয় করেছিলাম। সিলেটে তখন অনেকে এসে বাবাকে বলেছিলেন, মেয়ের তো বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। বাবা তখন উত্তর দিয়েছিলেন, আমার মেয়ের বিয়ের জন্য আপনাদের চিন্তা করতে হবে না।’

বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতিমালা ও আইনকাঠামোতে সহিংসতার ভয় মোকাবিলার সুযোগ অন্বেষণে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অ্যানালাইসিস অন চ্যালেঞ্জিং ফেয়ার অব ভায়োলেন্স’ শীর্ষক একটি বিশ্লেষণপত্র তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা। প্রজন্ম সংলাপে এ বিশ্লেষণপত্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, আইনের প্রয়োগ না হওয়া, বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বিচার না পাওয়া ও ভোগান্তির ভয়ে অনেকে আইনি সহায়তা নিচ্ছেন না। ভয়কে জয় করতে প্রতিবাদ ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, আইনের কার্যকারিতা ও বিচারব্যবস্থার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টিতে জোর দেন তিনি।

মনোচিকিৎসক মোহিত কামাল বলেন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি আস্তে আস্তে কমছে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির যাতনায় ভোগার কোনো কারণ নেই বরং মাথা উঁচু করে তা মোকাবিলা করার পরামর্শ দেন তিনি।

‘আমরাই পারি’র প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, পরিবারের নানা বিধিনিষেধ থেকে মেয়েদের ভয় পাওয়া শুরু হয়, তারপর বিভিন্ন স্তরে তৈরি হয় নির্ভরশীলতা। ভয় থেকে বের হতে হলে নিজেকে তৈরি করা, আইনকানুন জানা, বিপদে পড়লে সহায়তা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন হটলাইন ও হেল্পলাইনের নম্বরগুলো জানতে হবে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের গার্লস রাইটস হাব–এর পরিচালক কাশফিয়া ফিরোজ সম্প্রতি প্রায় ১০ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ পরিচালিত এক জরিপের কথা উল্লেখ করে বলেন, অংশগ্রহণকারীদের মধে৵ ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী জনসমাগমস্থলে যৌন হয়রানি, ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ পারিবারিক বলয়েই সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অনলাইনে ৫৭ শতাংশ নানাভাবে হয়রানি আর কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন ৫৬ শতাংশ নারী।

কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, পরিস্থিতির শিকার ব্যক্তিরাই শুধু ভয়ের মাত্রাটা বুঝতে পারেন। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের উৎপাদনশীলতা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা সহিংসতার শিকার হলেও মা–বাবাকে জানাতে ভয় পায়, মা–বাবা যদি বিশ্বাস না করেন, এমন ভয় থেকে। পরিবার ও প্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রে মন খুলে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা শুরু করলে সচেতনতা বাড়বে।

প্রজন্ম সংলাপ সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী লাবণ্য প্রজ্ঞা। সংলাপে যুব আলোচক হিসেবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাথীরা অংশ নেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজের মোহাম্মাদ উল্লাহ জাফরী, ভিকারুননিসা নূন কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত নুসরাত সায়েম, স্কলাসটিকার গার্গী তনুশ্রী পাল ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হামীম জুলফিকার।

এ ছাড়া প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত যুব প্রতিনিধি তাইফা,আঁখি, সাদিয়া ও আরিয়ান (প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের নীতিমালা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করা হয়েছে) তাঁদের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন