মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচারক আবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ধার্য তারিখে মঞ্জুর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এই মামলার প্রধান আসামি।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১০ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর হত্যা মামলার রায়ের দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে এই আদালতের বিচারক হোসনে আরা আকতারকে বদলি করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত এই আদেশ দেওয়া হলেও গতকাল মঙ্গলবার তা জানাজানি হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান বিচারককে বদলি করে তাঁর স্থলে খন্দকার হাসান মাহমুদ ফিরোজকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারক মামলার বিষয়বস্তু জানেন না, তাই নতুন করে যুক্তি-তর্ক শুনানির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। তাই ১০ তারিখ রায় ঘোষণা হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
১৯ বছর ধরে বিচারাধীন রয়েছে আলোচিত এই মামলাটি। গত বছরের আগস্টে এ মামলার বিচারিক আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান হোসনে আরা আকতার। এরপর গত ২৪ নভেম্বর যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ২২ জানুয়ারি অধিকতর শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন অধিকতর শুনানি শেষে ১০ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদসহ এ মামলার মোট আসামি পাঁচজন। বাকি আসামিরা হলেন মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শামস। এঁদের মধ্যে শেষ দুজনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত আছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার দুদিন পর ১ জুন আত্মগোপনে যাওয়ার পথে মঞ্জুরকে পুলিশ আটক করে। ওই দিনই তাঁকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন