চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৯৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১১। এর মধ্যে ৯৭টিতেই খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী ৩৩ শতক জায়গা হলেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন মেলে। এখানকার ৮৮ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই খেলার মাঠ নেই।
গত ২৯ জানুয়ারি উপজেলার ঘিলাতলী, নবকলস, শোভনকর্দী, দগরপুর, মুন্সীরহাট, ঢাকিরগাঁওসহ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেগুলোর পাশে এমনকি কাছাকাছিও কোনো খেলার মাঠ নেই। একচিলতে জায়গার ওপর থাকা এসব বিদ্যালয়ের আশপাশে পুকুর আর খাল। শিশুদের হইচই, ছোটাছুটি করার জায়গাটুকুও নেই সেখানে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা মনমরা হয়ে যার যার মতো করে আছে।
ঘিলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মামুন জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। তাদের খেলাধুলায় অসুবিধা হচ্ছে।
ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জাবেদ ওমর বলে, ‘মাঠের লইগা খেলতে পারি না। দৌড়ঝাঁপও দিতে পারি না। খেলতে না পারলে কি মন ভালা থাহে?’ নবকলস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জিএম হাবীব খান বলেন, মাঠ না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলতে পারছে না। এতে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে তারা। বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকের পুকুরটি ভরাট হলে সমস্যার সমাধান হতো।
ঢাকা উইমেন্স কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌসী খান বলেন, খুদে শিক্ষার্থীদের দৈহিক গঠন ও মেধা বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং মুক্তচিন্তার সুযোগ তৈরি করে। মাঠের অভাবে খেলতে না পারলে শিশুরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে ঘরকুনো হয়ে পড়বে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা উচিত। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেখান মাঠের ব্যবস্থা করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন