default-image

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গত শুক্রবার পর্যন্ত কোভিডের উপসর্গ নিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর ওই ১৮ জনের মধ্যে তিনজনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। বাকি ১৫ জনের কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসে। ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পাঠানো নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এ উপজেলায় আজ শনিবার পর্যন্ত কোভিড শনাক্ত হয় ১০৮ জনের। স্থানীয়ভাবে শনাক্তের পর এ পর্যন্ত মারা যাননি কেউ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজীব কিশোর বণিক এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যালয় সূত্র জানায়, এ উপজেলায় আজ শনিবার পর্যন্ত মোট ১০৮ জনের কোভিড শনাক্ত হয়। এর মধ্যে গত মে মাসে কোভিড শনাক্ত হয় ২০ জনের। গত জুনে ৮৫ জনের কোভিড শনাক্ত হয় । এ মাসে করোনায় শনাক্ত হয় তিনজনের। জুনে সংক্রমণের হার ৭৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত মার্চ ও এপ্রিলে একজনেরও কোভিড শনাক্ত হয়নি। গত ১২ মে প্রথমবারের মতো এখানে তিনজনের কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হয়।

সূত্রটি জানায়, সংক্রমিত ওই ১০৮ জনের মধ্যে ১০৭ জনকেই বাড়িতে আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্ন) রেখে মুঠোফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। সংক্রমিত ওই ১০৮ জনের মধ্যে আজ শনিবার পর্যন্ত কোভিড জয় করে সুস্থ হয়েছেন ৩৪ জন। সুস্থতার হার ৩১ দশমিক ৪৮। এ পর্যন্ত কোভিডের উপসর্গ নিয়ে মারা যান ১৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যুর পর তিনজনের কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়। স্থানীয়ভাবে কোভিড শনাক্তের পর ওই ১০৮ জনের মধ্যে আজ শনিবার পর্যন্ত একজনও মারা যাননি। অর্থাৎ জীবিত অবস্থায় কোভিড শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর হার শূন্য শতাংশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও রাজীব কিশোর বণিক বলেন, নমুনা দেওয়ার পর যাঁরা কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, হচ্ছে। নিয়ম মেনে চলায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের অনেকেই দ্রুত সুস্থ হয়েছেন। যাঁরা এখনো সুস্থ হননি তাঁদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ফাহমিদা হক বলেন, জীবদ্দশায় কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্তের পর এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যু না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। লোকজনের উচিত অসুস্থতা বা উপসর্গের খবর গোপন না করে বিষয়টি সময়মতো চিকিৎসকদের জানানো। দেরি না করে হাসপাতালে এসে নমুনাও দেওয়া উচিত। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারও নিরাপদে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন