মানববন্ধন চলার সময় বাবার খুনিদের বিচার চেয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয় নিহতের ৪ বছর বয়সী শিশুপুত্র শাফিন মাহমুদ ও ১৩ বছর বয়সী ছোট মেয়ে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী জান্নাতুল জাহান।

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘৫ জুন দুপুরে প্রকাশ্যে আমার ছেলে জাহাঙ্গীর নৃশংস হামলার শিকার হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, গত ১১ দিনেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’

নিহতের মেয়ে মাহমুদা জাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার বাবা সারা জীবন সততার সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন। তিনি কারও কোনো অন্যায় আচরণ করেছেন বলে শুনিনি। পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করে আমাদের তিন ভাইবোনকে এতিম করা হয়েছে। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বক্তারা বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর আমরা ভেবেছিলাম পুলিশ আসামিদের ধরতে তৎপর হবে। কিন্তু মধুখালী থানা-পুলিশের কাছ থেকে আমরা সুবিচার পাইনি। তবে এ মামলার তদন্তভার সিআইডিকে (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এবার আমরা ন্যায়বিচার পাব।’

জাহাঙ্গীর মিয়া একজন ব্যবসায়ী। মধুখালী রেলগেট এলাকায় তাঁর গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। তাঁর স্ত্রী গত নভেম্বরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

মধুখালী রেলগেট এলাকার দোকানটি বন্ধ করে কামালদিয়া ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামে একটি রিকশাভ্যানে করে ৫ জুন দুপুরের খাবার খেতে যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর মিয়া। বাড়ি পৌঁছানোর অন্তত ১০০ গজ আগে তিনি সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন। ওই দিন দিবাগত রাত একটার দিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের বাবা হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা ওয়ালিদ হাসানকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র বলছে, কামালদিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল বাশার। তিনি মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। গত ইউপি নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ালিদ হাসান। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়েছে। হাবিবুলের সমর্থক ছিলেন নিহত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর।

এ ব্যাপারে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় নাম উল্লেখ করা বা সন্দেহভাজন কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি গত ১১ দিনে। তিনি বলেন, তিন দিন আগে এ হত্যা মামলার তদন্তভার সিআইডির ওপর ন্যস্ত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা গতকাল বুধবার মধুখালী থানায় এসে পৌঁছেছে। দ্রুতই এ মামলার নথি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গ, ৭ জুন প্রথম আলোর চারের পাতায়, ‘ফরিদপুরের মধুখালী, ইউপি নির্বাচন নিয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর’ শিরোনামে এ-সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়।