default-image

পশ্চিম ধানমন্ডির মধুবাজারে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই চলছে সড়ক সংস্কারের কাজ। খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই। এ কারণে দুর্ভোগ এখন স্থানীয় লোকজনের নিত্যসঙ্গী।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মকর্তারা জানান, ২৯, ৩০ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক, নালা ও ফুটপাত উন্নয়নের কাজ চলছে। ফলে গত বছরের শেষ দিকে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়।
গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কের স্টার কাবাবের পেছন থেকে মধুবাজারের হাজী আক্তার হোসেন সড়কের মোড় পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। নালার পাইপ বসানোর জন্য সড়কের মাঝ বরাবর বড় বড় গর্ত করা হয়েছে। কিছু কিছু গর্তে পাইপ বসানো হয়েছে, কিন্তু মুখ খোলা। সেখানে নেই নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা। সড়কটি আবাসিক এলাকার মধ্যে। ফলে প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দারাই পড়েছেন বেশ বিপাকে। রাস্তার অর্ধেকের বেশি অংশ খুঁড়ে ফেলায় যান চলাচল পুরো বন্ধ। এমনকি হাঁটাই কষ্টসাধ্য।
মধুবাজারের সড়কটি শেষ হয়েছে রায়েরবাজারের শেরেবাংলা রোডে গিয়ে। হাজী আক্তার হোসেন সড়কে ঢোকার আগ পর্যন্তই সংস্কারের কাজ হচ্ছে। পরের অংশ আগের মতোই ভাঙাচোরা। এ ছাড়া মধুবাজার জামে মসজিদের সামনের সড়কটির অবস্থাও খারাপ।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেরই ‘সড়ক খনন নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্নির্মাণ’ নীতিমালা আছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সড়ক খোঁড়ার পূর্বশর্ত হলো প্রতিদিনের খনন করা অংশ বালু দিয়ে ভরাট করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা, আড়াআড়ি খননের ক্ষেত্রে স্টিলের পাত দিয়ে গর্ত ঢেকে রাখা, সাইনবোর্ড টাঙিয়ে খননের উদ্দেশ্য, কাজ শুরু ও সমাপ্তির তারিখ প্রদর্শন করতে হবে। অনিবার্য না হলে খননকাজ শুধু রাতেই করতে হবে এবং সকাল হওয়ার আগে খনন করা মাটি বা পরিত্যক্ত নির্মাণসামগ্রী (রাবিশ) সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু মধুবাজার সড়কটিতে খোঁড়াখুঁড়ির ক্ষেত্রে একটি নিয়মও মানা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু মোতালিব বলেন, অনেক দিন ধরে রাস্তার এই করুণ দশা। শিশুরা স্কুলে যায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় সব সময়। রাতের আঁধারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেশি।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, গত ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া কাজ এই বছরের ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, কাজের অগ্রগতি সামান্য। বাসিন্দারাও জানান, কাজ আগাচ্ছে না। ১০ দিন ধরে কাজ বন্ধ।
ডিএনসিসির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু তাহের খান প্রথম আলোকে বলেন, এলাকাবাসীও তাঁকে সমস্যার কথা বলেছেন। তিনি সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অজিয়র রহমান বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি তিনি খোঁজ নেবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন