হরতাল-অবরোধে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দিনাজপুরের মধ্যপাড়ার কঠিন শিলাখনির ইয়ার্ডে পাথরের স্তূপ জমতে শুরু করেছে। ইয়ার্ডে বর্তমান মজুতের পরিমাণ তিন লাখ মেট্রিক টন। গত বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্বতীপুর মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনির ইয়ার্ডে তিলধারণের জায়গা নেই। পুরো জায়গাজুড়ে কেবলই পাথরের স্তূপ।
পেট্রোবাংলার মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড সূত্র জানায়, খনি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু হরতাল-অবরোধে পরিবহনসংকট সৃষ্টি হওয়ায় পাথর বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। প্রতিদিন মাত্র দুই হাজার মেট্রিক টন পাথর বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদিত হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন। বাকিটা জমছে ইয়ার্ডে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (স্টোর) সৈয়দ রাফিজুল ইসলাম জানান, এ খনির পাথর অত্যন্ত উন্নত মানের। ভারতের উন্নত পাথর পাকুর গ্রেডের চেয়েও এর মান উন্নত। ফলে সরকার সড়ক, রেলপথসহ অবকাঠামো উন্নয়নে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে।
দেশে প্রতিবছর পাথরের চাহিদা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ মেট্রিক টন। প্রতি মেট্রিক টন পাথরের দাম ২ হাজার ১১৪ টাকা। আর সড়ক, সিমেন্ট তৈরিসহ নানাকাজে ব্যবহৃত প্রতি মেট্রিক টন পাথরের গুঁড়ার দাম ৪৫৭ টাকা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জেটিসি) ২০১৩ সাল থেকে মধ্যপাড়ায় পাথর উত্তোলন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন সমস্যার কারণে পাথর সরবরাহ কমে গেছে। আশপাশের জেলায় পাথর পাঠানো গেলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় পাঠানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া আগের তুলনায় ভাড়াও বেড়েছে। ঢাকায় পাঠাতে আগে পরিবহন ভাড়া ছিল ১২ হাজার টাকা। এখন সেই ভাড়া ২৪ হাজার টাকা।
মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আবুল বাশারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাজারজাতে কিছুটা ভাটা পড়লেও আশা করি তা কেটে যাবে দ্রুত।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন