মন্ত্রী পেয়ে আনন্দিত

বিজ্ঞাপন
>

ময়মনসিংহে দুজন, নেত্রকোনায় দুজন, টাঙ্গাইলে একজন ও জামালপুরে একজনকে মন্ত্রী করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহে দুজন, নেত্রকোনায় দুজন, টাঙ্গাইলে একজন ও জামালপুরে একজনকে মন্ত্রী করা হচ্ছে। এতে এই চার জেলার মানুষ আনন্দে ভাসছেন। তবে তাঁদের মধ্যে নেত্রকোনার আশরাফ আলী খান ও জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মুরাদ হাসান প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হচ্ছেন।

নেত্রকোনা: মোস্তাফা জব্বার ও আশরাফ আলী খানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করায় আনন্দে ভাসছে তাঁদের নিজ জেলা নেত্রকোনা। এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। শহর ছাড়াও জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এসব আনন্দ মিছিল করা হয়। এতে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। মিছিলে উচ্ছ্বসিত লোকজন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। মোস্তাফা জব্বার ও আশরাফ আলী খান উভয়েই মুক্তিযোদ্ধা। আশরাফ আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আমার নয়, সমগ্র জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।’

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের দুটি আসনের সাংসদেরা সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তাঁদের নির্বাচিত এলাকার মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী হওয়া দুই সাংসদ হলেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের নির্বাচিত সাংসদ শরীফ আহমেদ। তিনি সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আরেকজন হলেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের কে এম খালিদ। খালিদ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

শরীফ আহমেদের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে গতকাল তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিকেলে তারাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষও একসঙ্গে হয়ে আনন্দ মিছিল করেন। এ সময় একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।

ময়মনসিংহ-৫ আসনের সাংসদ কে এম খালিদ সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় মুক্তাগাছাতেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তাগাছা রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল। খালিদ প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আবার মানুষের মধ্যে আনন্দ এসেছে। তাঁর প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে স্থানীয় মানুষ মিষ্টি ও মুক্তাগাছার ঐতিহ্যবাহী মণ্ডা দিয়ে একে অপরকে আপ্যায়ন করান।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন—এ খবরে উচ্ছ্বসিত তাঁর নির্বাচনী এলাকা এবং পুরো টাঙ্গাইল জেলার দলীয় নেতা-কর্মীরা। গতকাল বিকেলে মধুপুর উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। রাজ্জাককে মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা।

আব্দুর রাজ্জাক টানা চারবার টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। এলাকাবাসী মনে করছেন, এবার মন্ত্রিত্ব লাভ করায় নিজ জেলা টাঙ্গাইলে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন।

সরিষাবাড়ী: জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে দুবার নির্বাচিত সাংসদ চিকিৎসক মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে গতকাল রাতে শিমলাবাজার এলাকায় আনন্দ মিছিল হয়েছে। গ্রামে গ্রামে নেতা-কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন। মিছিল শেষে বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য খোরশেদ আলম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ প্রমুখ।

মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান চিকিৎসক মুরাদ হাসানকে প্রতিমন্ত্রী করায় তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে। তাই আমরা আনন্দ মিছিল করেছি।’

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল ও সরিষাবাড়ী]

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন