ঢাকা শহরের নর্দমা ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা মহাবিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। এক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল শনিবার তাঁরা এই আশঙ্কার কথা জানান।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) উদ্যোগে সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম এম শফিউল্লাহ বলেন, ঢাকার স্ট্রম সুয়ারেজ লাইন ও ড্রেনেজ সিস্টেম এক হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি আর বর্জ্য এক হয়ে যাচ্ছে। এগুলো আবার গিয়ে পড়ছে আশপাশের নদীগুলোতে। ফলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে আলোচনা করেন অপরাজেয় বাংলার নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের মারুফ রহমান, পবার নির্বাহী সম্পাদক আবদুস সোবহান, সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।
বৈঠকে পবার চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ঢাকা নগরে ওয়াসার হিসাব অনুসারে প্রতিদিন ১৩ লাখ ঘনমিটার পয়ঃবর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে পাগলা পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগারে মাত্র ৫০ হাজার ঘনমিটার পরিশোধন করা হয়। অবশিষ্ট ১২ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য প্রতিদিন সরাসরি আশপাশের নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি দূষিত হয়ে মাছসহ সব ধরনের জলজ প্রাণীর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানিবাহিত জীবাণু দূষণে জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
আলোচকেরা বলেন, সারা বছর বিশেষ করে বর্ষাকালে রাজধানীতে সুয়ারেজ, ড্রেনেজ, গ্যাস, বিদ্যুৎ—এসবের সংযোগ ও সংস্কারের জন্য রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি চলতে থাকে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
বৈঠকে পানি ও পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের বাধা দূর করা, নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার করা, নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাধারে পয়ঃবর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করা, দখল ও ভরাট হওয়া নদী খাল পুকুর পুনরুদ্ধার করাসহ ১০টি সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0