দেশের মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ার পেছনে মোটরসাইকেলের দায় কতটা?

হাদিউজ্জামান: উন্নত বিশ্বের যেসব দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল, সেখানে মোটরসাইকেলচালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্সপ্রাপ্তি—সবকিছুই স্বচ্ছ। তারপরও দেশগুলোতে মোটরসাইকেল ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু আমাদের দেশে মোটরসাইকেল চালানো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখা হয় না। বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে চালানো শেখে। এ ছাড়া সড়ক ব্যবস্থাপনা এখনো লেনভিত্তিক হয়নি। এক লেনে সব চলছে।

ফলে ঝুঁকি বেশি। উঠতি বয়সী তরুণেরা আরও বেশি বেপরোয়া থাকে। শহরে যাঁরা মোটরসাইকেল চালান, তাঁরা যখন ঈদযাত্রায় দূরপাল্লায় যাবেন, তখন ঝুঁকিও বাড়ে। কারণ, শহরে চালানো আর মহাসড়কে চালানোর মধ্যে আকাশ–পাতাল তফাত রয়েছে।
মোটরসাইকেল দূরপাল্লার বাহন না। ইউরোপের দেশগুলোতে ৫৫০ সিসি বা এর বেশি সিসির মোটরসাইকেল দূরপাল্লায় চলে। সেখানে আলাদা সার্ভিস লেনও আছে।

বাংলাদেশে ৪ হাজার কিলোমিটার সড়কের মাত্র ১৫০ কিলোমিটার সার্ভিস রোড। মোটরসাইকলে তো তাহলে মিশ্র লেনেই চালাতে হবে। সেখানে চালক বা মোটরসাইকেলের দোষ না। এটা অবকাঠামোগত দুর্বলতা।

মোটরসাইকেলকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বড় একটি কারণ বলা হয়। হেলমেট না পরার প্রবণতা শহরের বাইরে বেশি। এই বিষয়কে কীভাবে দেখছেন?

হাদিউজ্জামান: হেলমেট শুধু পরলেই হবে না, গুণগত মান নিশ্চিত করে সঠিকভাবে পরতে হবে। এ নিয়ে বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। চালক ও আরোহীরা কম দামের হেলমেট পরেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য না, তাঁরা হেলমেট পরেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে। জনসাধারণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

মানুষ কেন ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেলমুখী হলো?

হাদিউজ্জামান: গণপরিবহন স্বল্পতা, নৈরাজ্য, টিকিট কালোবাজারি মানুষকে এই অবস্থায় নিয়েছে। মানুষ ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে ঝুঁকি জেনেও ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল বেছে নিয়েছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ব্যাপকভাবে সহজলভ্য করা হয়েছে। টাকা হলেই মানুষ একটি মোটরসাইকেল কিনতে পারছে।

এ ক্ষেত্রে বিআরটিএর ভূমিকা আসলে কী?

হাদিউজ্জামান: সড়ক পরিবহন আইনে গণপরিবহনের জন্য রুট পারমিট লাগে, তবে ব্যক্তিমালিকানা বাহনের জন্য লাগে না। সব মোটরসাইকেল এখন ব্যক্তিগত যান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না, বাণিজ্যিকভাবে ভাড়াতেও চালানো হচ্ছে। রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় বলা আছে, ভাড়ায় চালিত বাহনের বিষয়ে বিআরটিএ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে অনেকে। বিআরটিএর এই গাইডলাইন সবাই মানছে কি না, তা তদারকি প্রয়োজন। মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

বিআরটিএ কি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং এটা কতটা বাস্তবসম্মত?

হাদিউজ্জামান: বিআরটিএর সুপারিশ যৌক্তিক। তবে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। যাত্রীরা যেন ভোগান্তিতে না পড়ে, গণপরিবহনের সংকট যেন না হয়, সেই প্রস্তুতি নিয়ে বিআরটিএ এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারে।

নিরাপদ ও আরামদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার কী করতে পারে?

হাদিউজ্জামান: মোটরসাইকেলে কেউ ইচ্ছা করে ঈদযাত্রায় যায়নি। বিকল্প যান না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে অনেক বাস নামবে। সরকারি পরিবহনের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। ঈদে কী পরিমাণ যাত্রী ঢাকা ছাড়ে, সে তথ্য সরকার টেলিকম কোম্পানিগুলো থেকে জানতে পারে। সে অনুযায়ী গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা সাজানোর পরিকল্পনা আগেই করা দরকার। পাশাপাশি টিকিটপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে এবং কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন