কসাইয়ের কবল থেকে ছুটে প্রাণ বাঁচাতে দিনভর লড়াই করে অবশেষে হেরে গেল একটি মহিষ। এর আগে মহিষটির হামলায় প্রাণ হারান এক বৃদ্ধা। আহত হন অন্তত ২৫ জন। গতকাল শনিবার রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের যাদুরচর ও নালিয়াশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামের মঞ্জু কসাই মহিষটি কেনেন। গতকাল সকাল নয়টার দিকে মঞ্জু লোকজন নিয়ে এটি জবাই করার প্রস্তুতি নেন। এ সময় তাঁদের হাত থেকে ছুটে গিয়ে মহিষটি দৌড়াতে থাকে। রিকশা নিয়ে এটির পিছু নেন মঞ্জু। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে যাদুরচর এলাকায় গিয়ে এক বৃদ্ধার ওপর চড়াও হয় মহিষটি। হামলায় অচেতন হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। কিছু সময় পর মঞ্জু ঘটনাস্থলে গিয়ে রিকশাচালকের সহায়তায় বৃদ্ধাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
নালিয়াশুর গ্রামের হাসান আলী, দীন ইসলাম ও মানিকসহ আরও অনেকে জানান, যাদুরচর এলাকায় বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে মহিষটি চলে আসে ভাকুর্তা ইউনিয়নের নালিয়াশুর এলাকায়। এ সময় শত শত লোক এটি ঘেরাও করে আটকের চেষ্টা চালান। কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হন। এভাবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গ্রামবাসীর সঙ্গে মহিষটির পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সাভার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষটি আটকের চেষ্টা করে। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে তাঁর লাইসেন্স করা রিভলবার থেকে ছয়টি ও শটগান থেকে ১১টি গুলি ছুড়ে মহিষটি মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু গুলিতে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও লড়াই চালিয়ে যায়। অবশেষে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কয়েক শ জনতা একসঙ্গে মহিষটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চতুষ্পদ প্রাণীটি। তখন এর গলায় ছুড়ি চালান হাসান আলী। মাংস ভাগ করে নেয় গ্রামবাসী।
সাভার মডেল থানার এসআই শাহীন আলম বলেন, নিহত বৃদ্ধার নাম আম্বিয়া খাতুন (৭০)। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর গ্রামে। তিনি হেমায়েতপুর এলাকায় শাকসবজি বিক্রি করতেন। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন