default-image

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহেশখালী থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত লবণচাষি আবদুস সাত্তারের স্ত্রী হামিদা বেগম বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। এতে ওই মামলায় প্রদীপ কুমার দাশ ছাড়াও পুলিশের আরও পাঁচ সদস্যকে আসামি করা হয়। তাঁরা হলেন মহেশখালী থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশীদ, এসআই ইমাম হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন।

আর প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের ছয় সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ফেরদৌস চৌধুরীসহ তাঁর বাহিনীর ২৩ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় ফেরদৌস চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়। ২৪ নম্বর আসামি হলেন প্রদীপ কুমার দাশ।

হামিদা বেগম বলেন, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাতটার দিকে ফেরদৌস বাহিনীর সহায়তায় হোয়ানকের লম্বাশিয়া এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে তাঁর স্বামী আবদুস সাত্তারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে মহেশখালী থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ থানায় মামলা নেননি। অবশেষে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। রিট পিটিশন নং-৭৭৯৩/১৭ মূলে ‘ট্রিট ফর এফআইআর’ হিসেবে গণ্য করতে আদেশ দেন বিচারক। সেই আদেশের আলোকে ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত আবেদন করেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে হামিদা বেগম জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামিদা বেগমের করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৭ জুন আদেশ দেন। এতে বলা হয়, হামিদা বেগম এজাহার দাখিল করলে মহেশখালী থানার ওসিকে তা তাৎক্ষণিক গ্রহণ করতে হবে। এই আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রসচিবের (জননিরাপত্তা বিভাগ) পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ মে আপিল বিভাগ আদেশ দেন। এতে রুল ইস্যু না করে এজাহার গ্রহণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ওই রিটটি মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে নতুন করে শুনানি করতে বলা হয়।

জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুরে আদালতে মামলাটির শুনানি হয়েছে। তবে বেলা তিনটা পর্যন্ত আদালত কোনো আদেশ দেননি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0