পৌরসভা নির্বাচন

মাঠে দুই বড় দলের শতাধিক বিদ্রোহী

বিজ্ঞাপন
default-image

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দুই বড় দল অনেক চেষ্টা করেও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১২২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বহিষ্কারের হুমকি দিয়েও নির্বাচনের ময়দান থেকে বেশির ভাগ প্রার্থীকে সরানো যায়নি। তাঁদের অনেকেই দলীয় প্রার্থীদের মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন বলে বড় দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন।
গতকাল রোববার আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সব প্রার্থীর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়। এখন তাঁদের প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার পালা। তবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা, যাঁরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৭। তবে ঢাকায় আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, তাদের হিসাবে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৫৯ এবং এই প্রার্থীদের বহিষ্কারের কথা তৃণমূলের নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বিএনপির ৩৫। তবে দুই বড় দলেই অনেকে প্রার্থী হয়েছেন, যাঁরা দলীয় কোনো পদে না থাকলেও দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুসারে, ৭৬টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ৩২টি পৌরসভায়। সারা দেশে ২৩৪টি পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে।
২০০৮ সালের পর দেশে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে আর লড়াই হয়নি। প্রথমবারের মতো এবারই দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন হচ্ছে। ফলে এবারের এই মর্যাদার লড়াইয়ে নিজ দলের প্রার্থীদের জেতাতে মরিয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। গতকাল রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের যাঁরাই দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে নির্বাচন করছেন, তাঁদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের পরবর্তী বৈঠকে তাঁদের চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে। অবশ্য দলের অন্য সূত্রগুলো বলছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নামানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবে বিএনপি। তাতে কাজ না হলে দল থেকে তাঁদের বহিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিষয়ে দলে ভিন্নমতও আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল অনেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। যেসব নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে এখনো নির্বাচনে আছেন, তাঁদের বুঝিয়ে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হবে। তারপরও তাঁরা অনড় থাকলে স্থানীয় বিএনপি তাঁদের বিষয়ে যে প্রস্তাব বা পরামর্শ দেবে, কেন্দ্র থেকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগের অনেক বিদ্রোহীকে জোর করে বসিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ আছে। অনেকে চাপের কারণে নিজের মুঠোফোনও বন্ধ রেখেছেন।
আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ২০ জন মেয়র হওয়ার মতো সম্ভাবনাময়। অনেকেই আছেন, যাঁরা মাঠে থাকলে দলের প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরাও মনে করছেন, অন্তত ১৫টি পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা শক্তিশালী, যাঁদের কারণে দলের প্রার্থী সমস্যায় পড়তে পারেন।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রার্থী ইতিমধ্যে নির্বাচন করার জন্য দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সীতাকুণ্ড পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদিউল আলম। কিন্তু পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজ উদ দৌলা ও উপজেলা সদস্য সফিউল আলম দল থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে আছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিএনপির সৈয়দ মশিউর রহমান দল থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন, তাঁরা হলেন টাঙ্গাইলের বেলায়েত হোসেন (গোপালপুর), আজহারুল ইসলাম (ভূঞাপুর) ও হুমায়ুন খালিদ (কালিহাতী); জামালপুরের সাজেদ মোশাররফ (ইসলামপুর) ও শেখ মোহাম্মদ নুরনবী (দেওয়ানগঞ্জ); শেরপুরের আবদুল হালিম উকিল (নালিতাবাড়ী); ময়মনসিংহের দেবাশীষ ঘোষ (মুক্তাগাছা), মো. শাহজাহান (ফুলপুর), শফিকুল ইসলাম (গৌরীপুর), এ বি এম আনিসুজ্জামান (ত্রিশাল) ও ওমর ফারুক (ভালুকা); নেত্রকোনার জহিরুল ইসলাম (মোহনগঞ্জ) ও আবদুল হান্নান তালুকদার (মদন); কিশোরগঞ্জের আবদুল কাইয়ুম (করিমগঞ্জ), শওকত আকবর (বাজিতপুর), সৈয়দ হোসেন ও আবদুল কাদির (হোসেনপুর); চট্টগ্রামে সিরাজ উদ দৌলা ও সফিউল আলম (সীতাকুণ্ড); কুমিল্লায় আবদুল মান্নান সরকার (চান্দিনা) ও ইমাম হোসেন পাটোয়ারী (চৌদ্দগ্রাম); সুনামগঞ্জে আবদুল ওয়াহিদ (ছাতক); মৌলভীবাজারে শফি আলম ইউনুস (কুলাউড়া) ও আবদুর নূর (বড়লেখা); হবিগঞ্জে মিজানুর রহমান (সদর) ও আতাউর রহমান (শায়েস্তাগঞ্জ); সিলেটে ফারুক আহমদ (জকিগঞ্জ), ইকবাল আহমদ চৌধুরী ও আমিনুল ইসলাম (গোলাপগঞ্জ) ও নিজাম উদ্দিন (কানাইঘাট); ঢাকায় আবদুস সাত্তার (সাভার); নরসিংদীতে এস এম কাইয়ুম (সদর); মানিকগঞ্জে গাজী কামরুল হুদা (সদর) ও মীর মো. শাজাহান (সিঙ্গাইর); মুন্সিগঞ্জে রেজাউল ইসলাম (সদর) ও মনসুর আহমেদ (মিরকাদিম); গাজীপুরে আহসান উল্লাহ (শ্রীপুর); নারায়ণগঞ্জে সাদেকুর রহমান (সোনারগাঁ); রাজশাহীতে গোলাম কিবরিয়া (চারঘাট), হাসানুজ্জামান (দুর্গাপুর) ও জি এম হিরা (পুঠিয়া); সিরাজগঞ্জে আবদুর রহিম (শাহজাদপুর); জয়পুরহাটে এনায়েতুর রহমান আকন্দ (আক্কেলপুর) ও সাজ্জাদুর রহমান (কালাই); বগুড়ায় এ জি এম বাদশা (ধুনট) ও আবদুল হামিদ (সারিয়াকান্দি); চাঁপাইনবাবগঞ্জে কারিবুল হক (শিবগঞ্জ); পাবনায় তোফাজ্জল হোসেন (সুজানগর), আজাদ খান (ভাঙ্গুড়া), মির্জা রেজাউল করিম (চাটমোহর), আসাদুজ্জামান (ফরিদপুর), নফিজ উদ্দিন সরকার (সাঁথিয়া); মেহেরপুরে আশরাফুল ইসলাম (গাংনী); কুষ্টিয়ায় আতাহার আলী (মিরপুর), জাকারিয়া খান (কুমারখালী), আল মাসুম মোরশেদ ও আলাউদ্দিন (খোকসা); বরগুনায় শাহাদত হোসেন (সদর); ফরিদপুরে মোজাফ্ফর হোসেন (বোয়ালমারী) ও মুরাদ হোসেন (নগরকান্দা); মাদারীপুরে আবুল কালাম আজাদ (কালকিনি); শরীয়তপুরে ফারুক আহমেদ (সদর), বাবু রাঢ়ী (নড়িয়া), আক্কাস মুন্সি ও আবুল খায়ের ফকির (জাজিরা); চুয়াডাঙ্গায় ওবায়দুর রহমান চৌধুরী (সদর), জাহাঙ্গীর আলম (জীবননগর); ঝিনাইদহে তৈয়বুর রহমান খান (শৈলকুপা); যশোরে এস এম কামরুজ্জামান (সদর), জি এম মজিদ (মনিরামপুর), ফারুক হোসেন (নওয়াপাড়া), খলিলুর রহমান (বাঘারপাড়া) ও এস এম সাইফুর রহমান (চৌগাছা); নড়াইলে সোহরাব হোসেন বিশ্বাস ও আলমগীর হোসেন (সদর), এমদাদুল হক, মুশফিকুর রহমান, লায়েক হোসেন ও সোহেলী পারভীন (কালিয়া); বাগেরহাটে মিনা হাসিবুল হাসান (সদর); সাতক্ষীরায় আরাফাত হোসেন (কলারোয়া); গোপালগঞ্জে মুশফিকুর রহমান (সদর); ঠাকুরগাঁওয়ে এস এম সোলায়মান আলী সরকার (সদর); দিনাজপুরে লিয়াকত আলী সরকার (বিরামপুর); নীলফামারীতে ইলিয়াস হোসেন (জলঢাকা) এবং গাইবান্ধায় মাসুদুল ইসলাম (সুন্দরগঞ্জ)।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে আছেন টাঙ্গাইলে আনোয়ার হোসেন (সখীপুর); ময়মনসিংহে চান মাহমুদ (ফুলবাড়িয়া); কিশোরগঞ্জে আনোয়ার আলী মৃধা (হোসেনপুর); ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সৈয়দ মশিউর রহমান(আখাউড়া); কুমিল্লায় নুরুল আমিন সরকার (দাউদকান্দি), আলমগীর সরকার ও হানিফ মিয়া (হোমনা); চাঁদপুরে হেলাল উদ্দিন মজুমদার (হাজীগঞ্জ), গাজী শাহীন (কচুয়া), মঞ্জিল হোসেন (ফরিদগঞ্জ); মৌলভীবাজারে হাছিন আফরোজ চৌধুরী (কমলগঞ্জ), মতিউর রহমান (বড়লেখা), আবদুল মজিদ (শায়েস্তাগঞ্জ); নরসিংদীতে আবদুল খালেক (মনোহরদী); নারায়ণগঞ্জে শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (তারাব); রাজশাহীতে কায়েম উদ্দিন (চারঘাট), ফিরোজ সরকার (তানোর), সিরাজুল হক (কাটাখালী), রফিকুল ইসলাম (নওহাটা) ও তোজাম্মেল হক (আড়ানি); নাটোরে এমরান আলী খান (সিংড়া); পাবনায় কামরুল হাসান (সদর), কামাল হোসেন বিশ্বাস (সুজানগর), আশিক ইকবাল (সাঁথিয়া), আবদুল মান্নান (চাটমোহর), সিরাজগঞ্জে আর এম নূর আল হেলাল (সদর), আবদুস সালাম (কাজীপুর); জয়পুরহাটে আলমগীর চৌধুরী (আক্কেলপুর), আনিসুর রহমান তালুকদার (কালাই); বগুড়ায় তাজুল ইসলাম (শিবগঞ্জ), একেএম ফজলুল হক ও কামরুল হাসান সিদ্দিকী (সারিয়াকান্দি); চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবদুল মতিন (সদর); যশোরে আবু তাহের সিদ্দিকী (বাঘারপাড়া) এবং নড়াইলে স ম একরাম রেজা (কালিয়া)।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন