মাথায় আঘাতজনিত কারণ ও পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শিশু জিহাদের। আজ রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জিহাদের ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক হাবিবুজ্জামান চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, পাম্পের পাইপে পড়ার দুই ঘণ্টা পরে জিহাদ মারা যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে জিহাদের ময়নাতদন্ত শুরু হয়। পৌনে ১০টার দিকে তা শেষ হয়। বেলা ১১টার দিকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান হাবিবুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা জানান। ময়নাতদন্ত শেষে জিহাদের লাশ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, চিকিৎসক এ কে এম শফিউজ্জামান ও প্রদীপ কুমার বিশ্বাস।

সকালে জিহাদের মা খাদিজা আক্তার ও বাবা নাসির ফকির হাসপাতালে যান। হাসপাতালে জিহাদের মামা মনির হোসেন জানান, সময় স্বল্পতার কারণে তাঁরা জিহাদের মরদেহ শাহজাহানপুরে নিয়ে যাবেন না। তার লাশ সরাসরি গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নাগরপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই তার দাফন হবে।

গতকাল শনিবার বেলা তিনটার দিকে একদল উদ্যমী তরুণের চেষ্টায় জিহাদকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরে চিকিৎসক জানান, অনেক আগেই সে মারা গেছে। এর আগে ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টার অভিযানে শিশু জিহাদকে উদ্ধার করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান স্থগিত করার ১০ মিনিট পর তার নিথর দেহ তুলে এনেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। উদ্ধারের পর বালুর মাঠে কান্নায়-ক্ষোভে-বাঁধভাঙা আবেগে ফেটে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ। শিশুটিকে একনজর দেখার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। চিৎকার করে আল্লাহকে ডাকছিলেন অনেকেই।

জিহাদকে উদ্ধারের আগ পর্যন্ত শাহজাহানপুর থানায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় তারা বাবাকে। এমনকি কোথায় জিহাদকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে জানাতে তাঁকে উল্টো ভয়ভীতিও দেখানো হয়। এ সময় কোনো ধরনের খাবারও দেওয়া হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় শাহজাহানপুর রেল কলোনির এক আত্মীয়ের বাসায় শিশু জিহাদের বাবা বিলাপ করে এমন অসহায়ত্ব ও কষ্টের অনুভূতি প্রথম আলোর কাছে তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন