মানুষ কাজে ফিরছে বলে...

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রথম দিকে ত্রাণের যে চাহিদা ছিল, তা এখন অনেক কমে গেছে বলে সরকারকে জানিয়েছে মাঠ প্রশাসন। তাদের মূল্যায়ন, মানুষ কাজে ফিরতে শুরু করায় ত্রাণের চাহিদা কমেছে। আর এই তথ্যের ভিত্তিতে আপাতত নতুন করে আর ত্রাণের চাল বরাদ্দ দিচ্ছে না দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে প্রয়োজন হলে আবারও চাহিদার ভিত্তিতে ত্রাণ বরাদ্দ করা হবে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুনের পর করোনার কারণে আর ত্রাণ বরাদ্দ দেয়নি মন্ত্রণালয়। তবে আগে দেওয়া বরাদ্দ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মাঠ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, করোনার কারণে এখন ত্রাণের চাহিদা নেই। এ কারণে বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন বন্যার জন্য ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের কারণে মানবিক দুর্যোগ শুরুর পর গত ২৪ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দেড় কোটির বেশি পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, করোনার কারণে ২ লাখ ১১ হাজার ১৭ মেট্রিক টন চাল এবং প্রায় ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নগদ প্রায় ১১৯ কোটি টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন চাল বিতরণ হয়েছে।

>১১ জুনের পর ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়নি
তবে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ অব্যাহত আছে।

এসব ত্রাণসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কিছু অনিয়মের ঘটনাও ধরা পড়ে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ২৮ জুন পর্যন্ত এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সরকারের ১০২ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সরকার। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ৬৪ জন সদস্য, একজন জেলা পরিষদের সদস্য, চারজন পৌরসভার কাউন্সিলর এবং একজন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।

ত্রাণ বন্ধের বিষয় নিয়ে কথা হয় চার জেলা প্রশাসক ও একজন ইউএনওর সঙ্গে। তাঁরা বলেছেন, দরিদ্র মানুষ এখন কাজে ফিরতে শুরু করায় মূলত ত্রাণের চাহিদা কমেছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকে নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৮৩ হাজার পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে আড়াই হাজার করে নগদ সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও চলছে। তাঁরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, ত্রাণের চাহিদা আগের চেয়ে দুই–তৃতীয়াংশ কমেছে। কারণ, প্রথম দিকে কর্মহীন মানুষ বেশি ছিল। এখন অনেকেই কাজে ফিরেছেন। 

পিরোজপুরের একটি উপজেলার একজন ইউএনও জানালেন, আগে তাঁর কার্যালয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ আসতেন ত্রাণের বিষয়ে। এখন দু–তিনজন আসেন।

শিল্পকারখানা–অধ্যুষিত জেলা নরসিংদী। এই জেলাতেও ত্রাণের চাহিদা আগের চেয়ে কমেছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। কারণ হিসেবে তিনি বললেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বাবুরহাট খুলে দেওয়া হয়েছিল বেশ আগেই। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ফুড বেজারেজ শিল্পকারখানাগুলোও খোলা রাখা হয়। এখন বিভিন্ন মানুষ নানাভাবে উপার্জনের ব্যবস্থা করছেন।

তবে দরিদ্রপ্রবণ এলাকা কুড়িগ্রামে এখন বন্যা থাকায় ত্রাণের চাহিদা রয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ত্রাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, এখনই ত্রাণসহায়তা একেবারে বন্ধ করা ঠিক হবে না। কারণ, এখনো সবকিছু পুরোদমে খোলেনি। সীমিত আকারে খুলেছে। ফলে যাঁরা বেকার বা সমস্যায় আছেন, তাঁদের সহায়তার জন্য ব্যবস্থাটি চালু রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে একটি নম্বর চালু রাখা যেতে পারে, যেখানে সমস্যায় থাকা ব্যক্তিটি নিজ থেকে ফোন করে তাঁর সমস্যার কথা জানাবেন। এরপর যাচাই করে সহায়তা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন