default-image

রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের কাছে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আগুনে পুড়ে নিহত ৫৪ জন মানুষের একটি তালিকাও খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে টাঙিয়ে দেন তাঁরা। তাঁদের আশা, খালেদা জিয়া একবার হলেও এই তালিকা দেখবেন। এতে তাঁর মনে মায়া হবে। 
আজ রোববার রাজধানীর গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বর-বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ পর্যন্ত চলমান অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ওই মানববন্ধন করেন তাঁরা। মানববন্ধনে অগ্নিদগ্ধদের স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, শিল্পী, লেখকসহ বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার মানুষ অংশ নেন। এ ছাড়া ‘সহিংসতা থামাও’ নামে ফেসবুকের একটি গ্রুপের সদস্যরা মানববন্ধনে সক্রিয় অংশ নেন।
মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, একটি পরিবার তাঁদের দুর্নীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে এই হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। এভাবে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা, মানুষের সম্পদ ধ্বংস করা, মেনে নেওয়া যায় না।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা চাই এই সহিংসতা, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা বন্ধ করে তাঁরা যেন গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসেন। মানববন্ধন থেকে এটাই আমাদের চাওয়া।’
অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা চলমান সহিংসতা বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। ছেলেমেয়েরা যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে, এ জন্য অবরোধ-হরতাল বন্ধ করতে হবে।’ তিনি রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা আলাপ-আলোচনা করে সমাধান বের করুন। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন সহিংসতা বন্ধ করা।’
চিত্রনায়িকা নাসরিন আক্তার নিপুণ বলেন, ‘অবরোধ, হরতালে আমাদের শিল্পী সমাজের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা শিডিউল রক্ষা করতে পারছি না। আপনারা সহিংসতা বন্ধ করুন। আমাদেরও রক্ষা করুন।’
সাংসদ তারানা হালিম বলেন, ‘প্রতিদিন পত্রিকা খুলেই আমরা অগ্নিদগ্ধ মানুষের চেহারা দেখি। আমরা এই মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। সব মানুষ যেন পথে নেমে আসে। খালেদা জিয়া এই পেট্রলবোমা সন্ত্রাস যেন বন্ধ করেন।’
মানববন্ধনে অভিনেতা হাসান ইমাম, চঞ্চল চৌধুরী, নাদের চৌধুরী, তুষার খান, জাহিদ হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওহিদুজ্জামানসহ শতাধিক লোকজন অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বর থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের অভিমুখে মৌন পদযাত্রা শুরু করেন। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এ সময় পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ তারানা হালিমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে এসে আগুনে পুড়ে নিহত ব্যক্তিদের তালিকা টাঙিয়ে দেন। সেখানে ফুল দিয়ে তাঁরা শ্রদ্ধা জানান।
তালিকা কেন টাঙানো হলো—জানতে চাইলে সাংসদ তারানা হালিম বলেন, ‘আমরা একটি তালিকা টাঙিয়ে দিলাম। হয়তো খালেদা জিয়া একবার হলেও এই তালিকা দেখবেন। তাঁর মনে মায়া হবে।’
নিহতদের ওই তালিকা টাঙাতে গেলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ডাকেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির খানকে।
তাঁর সঙ্গে কী কথা হলো—জানতে চাইলে শাইরুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপনারা শুধু আগুনে পোড়া মানুষদের তালিকা কেন টাঙিয়েছেন? চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে যেভাবে তালিকা টাঙিয়েছেন, আশা করি পুলিশ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের হাতে বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী নিহত-আহত হয়েছেন, তাঁদেরও একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে টাঙিয়ে দেবেন।’
এদিকে মানববন্ধন শেষে আগুনের জবানবন্দি এবং পরে বার্ন ইউনিট নামের দুটি পথনাটক প্রদর্শিত হয়। সেখানে পেট্রলবোমা ও আগুনে পোড়ানো বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালের নামে নাশকতার সমালোচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন