নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আজ বুধবার দুপুরের দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানাবে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ সব তথ্য জানিয়েছেন।
মান্না এখন ডিবি কার্যালয়ে আছেন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরেক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম জানান, মান্নার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার বিষয়ে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছেন। তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর (মান্না) বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনেও (আইসিটি অ্যাক্ট) মামলা হতে পারে। ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ৬ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে যত সহিংসতা-নাশকতা হয়েছে, তাতে মান্নার সংশ্লিষ্টতা পেলে ওই সব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়কে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বনানীর একটি বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ২১ ঘণ্টা পর গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মান্নাকে গুলশান থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে আটকের পর থেকে ২১ ঘণ্টা মান্নাকে কোথায় রাখা হয়েছিল, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের দাবি, গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে মান্নাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২-এর একটি দল।
পুলিশ জানায়, মান্নার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৩১ ধারায় মামলা হয়েছে। এসআই সোহেল রানা মামলাটির বাদী। মামলায় গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বনানীর একটি বাসা থেকে মান্নাকে গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে একটি দল তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরিবারের লোকজন গতকাল দিনভর খোঁজ করেও জানতে পারেননি, তিনি কোথায় ছিলেন, কেমন ছিলেন। দিনভর মান্নার খোঁজ পাওয়া না গেলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে আভাস পাওয়া যায় যে, তাঁকে রাতের যেকোনো সময় থানায় হস্তান্তর করা হবে। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। থানায় হস্তান্তরের পর তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।


পুলিশের রমনা, মতিঝিল ও গুলশান বিভাগের ১১ থানায় মান্নার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নাশকতা, লাশ ফেলাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে পুলিশ ২৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকা এবং অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে মান্নার কথোপকথন নিয়ে গত সোমবার আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন