বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ধর্ষণ, মারধর, চুরি, মানব পাচার—এমন সব অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় করা পৃথক মামলার চক্করে পড়ে হাইকোর্টে রিট করেন একরামুল। রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৪ জুন হাইকোর্ট রুল দিয়ে ওই সব মামলা দায়ের ও তার পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে একরামুলের বিরুদ্ধে করা পৃথক মামলার ৫ বাদী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। পাঁচজন বাদী হলেন রফিকুল ইসলাম, আবুল বাশার, আফজাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম নাহিন ও মো. সোহেল।

শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ গত ৫ সেপ্টেম্বর আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে স্থগিতাদেশ দেন। অন্যদিকে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

পরে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করে পক্ষগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২১ সেপ্টেম্বর একরামুলের রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

এ অবস্থায় আবুল বাশারের আবেদনে আপিল বিভাগের গত ৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে ৭ অক্টোবর আপিল বিভাগে আবেদন করেন একরামুল। চেম্বার আদালত হয়ে আবেদনটি আজ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে একরামুলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এমাদুল হক বশির। অন্যদিকে, বাশারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম কে রহমান।

আইনজীবী এমাদুল হক বশির প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে ১৩টি জেলায় একরামুলের বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২০টি মামলায় ১ হাজার ৪৬৫ দিন কারাভোগ করেন তিনি। ২০টি মামলার মধ্যে পাঁচ মামলার বাদী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এর মধ্যে চারটি মামলা চলমান। তবে একরামুলের বিরুদ্ধে আবুল বাশারের করা মামলাটি ২০১৫ সালে বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আপিল বিভাগে শুনানিতে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন কোনো পক্ষই দাখিল করেনি। তাই আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদনটি করা হয়।

উল্লেখ্য, জামিনে বের হয়ে ওই সব মামলা ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে মামলা দায়েরে সম্পৃক্ত বা বাদীকে খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ জুন রিট করেন একরামুল। নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুরে অবস্থিত আনোয়ার ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের মালিক একরামুল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন