default-image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল সোমবার পৃথক চারটি মামলা হয়েছে। কোনো মামলায় ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী কোনো নেতার নাম নেই। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা দুটি মামলার এজাহারেই ৫০ জনের করে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুই মামলার আসামিরাও একই ব্যক্তি। মামলা দুটির এজাহার থেকে জানা যায়, আসামিদের মধ্যে আছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন, বাংলা বিভাগের আসাদুজ্জামান আসাদ, ইতিহাস বিভাগের সুমন অগাস্টিন সরেন, মার্কেটিং বিভাগের ইকবাল কবির ও সোহরাব হোসেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সুজন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের গোলাম মোস্তফা, ফোকলোর বিভাগের আবু সুফিয়ান, সমাজকর্ম বিভাগের আহসান হাবীব, শিরিন আক্তার, উত্সব মোসাদ্দেক ও আবদুল্লাহ আল মুইজ, ইংরেজি বিভাগের অয়ন, বাংলা বিভাগের তাসনিমা তাহরিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের খাদেমুল বাশার প্রমুখ। তাঁরা সবাই প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা। এজাহারে আসামি করা শিবিরের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, শিবিরের নেতা মিজানুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়াও শিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মতিহার থানার উপপরিদর্শক মাসুদার রহমান বাদী হয়ে যে দুটি মামলা দায়ের করেছেন তাতেও উল্লিখিত আন্দোলনকারী ও শিবিরের নেতাদের আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশের করা মামলায় আসামি হিসেবে ৪৫ জনের করে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো মামলাতেই অস্ত্রধারী কোনো নেতার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদার রহমান বলেন, দুটি মামলাতেই আন্দোলনকারী ও শিবিরের নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশের করা মামলায় আসামি হিসেবে ৪৫ জনের করে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো মামলাতেই অস্ত্রধারী কোনো নেতার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার নগরের মতিহার থানায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়। একটিতে ‘বেআইনি জনসভায় দলবদ্ধ হয়ে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আক্রমণ, মারপিট ও জখম করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। আরেকটিতে ‘ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গুরুতর জখম করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই মামলাতেই ছাত্রশিবিরের ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মতিহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুন নূর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা অভিযোগ দিয়েছেন আমরা সেই অনুযায়ীই মামলা লিপিবদ্ধ করেছি।’ পুলিশের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা হয়তো সবাইকে তাত্ক্ষণিকভাবে চিনতে পারেননি। তাই সবার নাম দেওয়া সম্ভব হয়নি।’ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান শামসুন নূর।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন