বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গৌতম কুমার বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ধূপখোলায় তিনটির পরিবর্তে একটি মাঠ নির্মাণ করতে চাইছে। এতে কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে যাবে। আমাদের খেলাধুলা বাধাগ্রস্ত হবে। সামনে আমাদের অনেকগুলো টুর্নামেন্টের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু করার কথা ছিল এই মাঠেই। আমরা তাদের বলেছিলাম, যত দিন পর্যন্ত আমাদের নতুন ক্যাম্পাসে যাওয়া হচ্ছে না, তত দিন যেন আমাদের অংশে কাজ না করা হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য নিজস্ব কোনো মাঠ না থাকায় ধূপখোলা খেলার মাঠটি তিন ভাগ করে এক ভাগ তৎকালীন সরকারি জগন্নাথ কলেজকে ব্যবহার করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেন। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি খেলার মাঠ হিসেবে ধূপখোলা মাঠটিকে ব্যবহার করছে। এই মাঠেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মূলত মাঠ তিনটি অংশে বিভক্ত, যার অর্ধেক অংশ ইস্ট অ্যান্ড ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি অংশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে। সিটি করপোরেশনের অংশে বাইরে থেকে মাটি এনে রাখা হয়েছে। চলছে স্থাপনা নির্মাণের কাজ। ক্লাবের মাঠ উন্নয়নকাজ চলছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খনন শুরু হয়েছে।

তবে স্থাপনা নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। পরে প্রকল্পের পরিচালক আবুল হাশেমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন রেখে দেন।

default-image

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য কামালউদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। রাষ্ট্রপতির মৌখিক অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো কাগজপত্র না থাকায় সিটি করপোরেশন তা গুরুত্ব দেয়নি। এখন আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়ে কাজ থামানো যায় কি না, সে সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আইন উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

২০১৬ সালের মার্চে ডিএসসিসির বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে ধূপখোলা মাঠে একটি বাণিজ্যিক শিশুপার্ক নির্মাণে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রথম আলোতে ‘ধূপখোলা মাঠে বাণিজ্যিক শিশুপার্ক তৈরির উদ্যোগ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাণিজ্যিক পার্ক নির্মাণের প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে গণশুনানির আয়োজন করে ডিএসসিসি। তাতে মহল্লার লোকজন ধূপখোলা মাঠ রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেন। পরে বাণিজ্যিক শিশুপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ডিএসসিসি। নতুন পরিকল্পনায় বরাদ্দের ওই টাকা দিয়েই মাঠ সংস্কার, শিশু কর্নার ও মার্কেট নির্মাণ করা হবে বলে তৎকালীন ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন