বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালদ্বীপ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নানা অনিয়ম রয়েছে। মালদ্বীপ সরকারও এ খাতকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে চায় না। বৈধ কাগজ না থাকায় একজন কর্মী নির্যাতিত হলে বিচার পান না, চিকিৎসা পান না। মারা গেলে দেশে লাশ আনার ব্যাপারেও কোনো সহায়তা পান না। কর্মী যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে মালদ্বীপ সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবে।

মালদ্বীপ সরকারের হিসাব অনুসারে দেশটিতে ১ লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার বৈধ কর্মী আছেন। এ সংখ্যা আরও বেশি হবে জানিয়ে রামরুর গবেষণা সূত্র বলছে, মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীরা যথাযথ সম্মান পান না। বেশির ভাগ চুক্তিতে কাজ করেন। নারী কর্মীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হন, ক্যাসিনোতে তাঁদের চাকরি করতে বাধ্য করা হয়। স্থানীয় রাজনীতিতেও কর্মীদের ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের জনবল কম থাকায় তারাও তেমন সেবা দিতে পারে না।

অনেক কর্মীই নানাভাবে অবৈধ হয়ে পড়ায় মালদ্বীপে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। নানা সংকটের মধ্য দিয়ে তাঁদের যেতে হচ্ছে।
সি আর আবরার, রামরুর নির্বাহী পরিচালক

মালদ্বীপে ১৪ বছর কাজ করে দেশে ফেরা মো. রাজীব বলেন, বাসায় কাজ করার কথা বলে নারীদের নিয়ে গেস্টহাউসে আটকে রেখে যৌন কাজে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশের একটি দালাল গোষ্ঠী সেখানে কাজ করে। দিন হিসাবে টাকা দিয়ে অনেক কর্মীকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়ে যায়।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ২০০৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মালদ্বীপে কাজ নিয়ে গেছেন এক লাখ চার হাজার কর্মী। তবে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর বৈধ কাগজ না থাকা কর্মীদের ধরে ধরে দেশে পাঠানো শুরু করে মালদ্বীপ। গত বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন।

তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকার পরও মালদ্বীপে কর্মী যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৭৮টি দেশে কর্মী পাঠানো হলেও ১৬টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক আছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে আছে মালদ্বীপও। কিন্তু দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটির কোনো সভা হয়নি কখনোই।

রামরুর নির্বাহী পরিচালক সি আর আবরার বলেন, অনেক কর্মীই নানাভাবে অবৈধ হয়ে পড়ায় মালদ্বীপে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। নানা সংকটের মধ্য দিয়ে তাঁদের যেতে হচ্ছে। প্রবাসীদের সহায়তা করতেই দুই দেশের দুটি সংস্থা মিলে কাজ করতে গবেষণাটি চালানো হচ্ছে।