নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মদনপুর-জয়দেবপুর ঢাকা বাইপাস সড়কের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে গতকাল রোববার ভোরের দিকে মালবাহী ছয়টি কাভার্ড ভ্যান ও চারটি ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ১১ জন এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৫০ লাখ টাকার। সড়কের মধ্যে পড়ে থাকা মাটি বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া যানবাহনগুলোর মধ্যে সিমেন্ট ও সয়াবিন তেল বহনকারী তিনটি কাভার্ড ভ্যান, সিমেন্ট বহনকারী একটি এবং রপ্তানির জন্য তৈরি পোশাক বহনকারী তিনটি ট্রাক রয়েছে।
মদিনা গ্রুপের আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক রবীন্দ্র কুমার বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের চারটি গাড়ি ওই দুর্ঘটনায় পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাক রয়েছে। এগুলো সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাটের কারখানা থেকে সিমেন্ট নিয়ে গাজীপুর যাচ্ছিল।’
এলাকাবাসী, চালক ও চালকের সহকারীরা জানান, রাতের আঁধারে কৃষকদের জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির জন্য এই সড়ক দিয়ে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র। তখন ট্রাক থেকে সড়কে মাটি পড়ে। গত রাতে বৃষ্টি হওয়ায় এসব মাটি কাদা হয়ে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতেই চাকা পিছলে গিয়ে একের পর এক যানবাহন সড়কের পাশের গর্তে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ছয়জন চালক ও পাঁচজন চালকের সহকারী আহত হন। তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সিংলাব গ্রামের বাসিন্দা ও মনিহারি দোকানের মালিক নুরুজ্জামান মিয়া দাবি করেন, ‘সড়কে চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক এসে আমার দোকানের ওপর পড়ে।’
গতকাল দুপুরে সিংলাব, পাকুন্দা, গাবতলী ও পেচাইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিক্ষিপ্তভাবে জটলা করে ঘটনার জন্য পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের দায়ী করে বিক্ষোভ করছেন। সে সময় কাঁচপুর হাইওয়ে ও সোনারগাঁ থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পাকুন্দা, কাহেনা, পেচাইন, কান্দাপাড়া, রাউতগাঁ ও সিংলাব গ্রামের কৃষিজমি থেকে দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি চক্র মাটি কেটে নিচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তা বন্ধ হয়নি।
সিংলাব গ্রামের কৃষক হযরত আলী ও আমির হোসেন অভিযোগ করেন, জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হুমায়ুন কবির, কর্মী শিপলু মিয়া, আজিজুল হকসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত।
হুমায়ুন কবির দাবি করেন, ‘আমরা কৃষকদের জমির মাটি কিনেই নিচ্ছি। আর পুলিশের অনুমতিও আছে।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছু লোক কৃষকদের মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত বলে শুনেছি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মাটি লুট করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আজ থেকে (রোববার) এখানে সব ধরনের মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঞা বলেন, ‘আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ওই এলাকার কৃষকদের জমি থেকে মাটি লুটের সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় শিগগিরই মামলা হবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন