default-image

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের আপত্তির মুখে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনে আইন করার জন্য একটি খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার ইসির বৈঠকে এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। লিখিতভাবে এই সিদ্ধান্তে আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) জানান মাহবুব তালুকদার।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত সব ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে রয়েছে। এগুলো সেখান থেকে আলাদা করে নতুন আইন করতে চায় ইসি। এই খসড়ার ওপর বিভিন্ন দলের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আজ সভা শেষে ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, দলের নিবন্ধনের বিষয়টি ৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ছিল না। এটি ২০০৮ সালে যুক্ত করা হয়েছে। তখন আলাদা আইনের কথা উঠেছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে তড়িঘড়ি করে এটিকে আরপিওতে যুক্ত করা হয়। বর্তমান কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়টি আলাদা করে আইন করার প্রয়োজন মনে করছে।

সচিব আরও বলেন, বর্তমানে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু নিবন্ধনের বিষয়টি আরপিওতে থাকলে তা কেবল সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকের জন্য আলাদা আইনের প্রয়োজন হবে।

বিজ্ঞাপন

মো. আলমগীর বলেন, কমিশন আইনের সব দিক পর্যালোচনা করে কিছু সংযোজন-বিয়োজনের নির্দেশনাসহ এটি অনুমোদন দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সংযোজন-বিয়োজন করে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সচিব জানান, ১৭টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠনসহ ৪১ প্রতিনিধির মতামত তাঁরা পেয়েছেন। এর মধ্যে যেগুলো গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে, সেটা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাহবুব তালুকদারের ‘নোট অব ডিসেন্ট’
এই আইনের খসড়া অনুমোদনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সমঝোতার পথ খুঁজে না পেয়ে কেবল রেকর্ড রাখার জন্য বাধ্য হয়ে তিনি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি যতবার নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি, তা বাধ্য হয়েই দিয়েছি। আমি সমঝোতার কোনো পথ খুঁজে পাইনি। এখানে কিছু বিষয় রয়েছে যাতে কোনো সমঝোতা হয় না। আমি এখানে বলেছি আইনের প্রয়োজনীয়তা নেই। তারপরও আমার কথাটা তো কেউ মেনে নিচ্ছে না। যার জন্য রেকর্ড দেখার জন্য আমি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।’

লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২”-এর “চ্যাপ্টার সিক্স”-এর বিভিন্ন আর্টিকেল কর্তন করে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন, ২০২০ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমি এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি। আরপিও বা “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২”-এর অংশবিশেষ নিয়ে পৃথকভাবে আইন প্রণয়ন হঠকারী সিদ্ধান্ত। আমি পূর্বেও বলেছি, “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২” একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল, যা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার অনন্য স্মারক। নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাব গৃহীত হলে “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২”-এর অঙ্গহানি ঘটবে, যাতে একে বিকলাঙ্গ মনে হবে।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, এই আইন করার প্রয়োজনীয়তা কী, তা বোধগম্য নয়। প্রয়োজন হলে আরপিও সংশোধন করা যেতে পারে। এই আইন প্রণয়ন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনায়ও কমিশনে মতদ্বৈধতা ছিল। এটি নিয়ে আরও আলোচনা, যাচাইবাছাইয়ের প্রয়োজন ছিল।

মন্তব্য পড়ুন 0