default-image

রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডের একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় শিশু রুশদী ও তার মা জান্নাতুল ফেরদৌসীর পর মারা গেলেন বাবা শহিদুল কিরমানিও। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

শহিদুল কিরমানির মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল। তিনি জানান, শহিদুলকে লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়েছিল।

এর আগে গতকাল রোববার সকালে মারা যান রুশদীর মা জান্নাতুল ফেরদৌসী । আগুনে শ্বাসনালিসহ জান্নাতের শরীরের ৯৫ ও শহিদুলের শরীরের ৪৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডের আবাসিক এলাকার একটা পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই বাড়ির দোতলায় বায়িং হাউস চালানো হচ্ছিল। নিচতলায় গ্যারেজের এক পাশে ছিল ওই প্রতিষ্ঠানের গুদাম। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই সিঁড়িঘরের বৈদ্যুতিক বোর্ড থেকে আগুন প্রথমে বায়িং হাউসের গুদামে ও পরে গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পাঁচ বছরের শিশু এ কে এম রুশদীসহ ‘ক্ল্যাসিক ফ্যাশন’ নামের ওই বায়িং হাউসের কর্মচারী আবদুল কাদের (৪৫) ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরিন জান্নাত ওরফে জ্যোতি (১৭) মারা যান। দগ্ধ হন রুশদীর বাবা-মা। আর আফরিন জান্নাতের মা লাল বানু ও বাবা গণপূর্তের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ছাদ থেকে দড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, শহিদুল কিরমানি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ওই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে শহিদুল রুশদীকে কোলে নিয়ে নিচে নেমে আসছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী। কিন্তু ফ্ল্যাট থেকে বের হতে গিয়ে ঘন কালো ধোঁয়ার মধ্যে পড়ে যান তাঁরা। একপর্যায়ে রুশদী শহিদুলের হাত থেকে পড়ে যায়। জান্নাতুলও বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরে তিনতলার সিঁড়িতেই রুশদীর লাশ পাওয়া যায়।

রুশদীর দাদা একটি জাতীয় দৈনিকের জ্যেষ্ঠ উৎপাদন ব্যবস্থাপক এ কে এম শহীদুল্লাহ জানান, শহিদুল কিরমানি তাঁর একমাত্র ছেলে। শহিদুল পুলিশ প্লাজায় ‘ভিআইভিপি এস্টেট ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি কোম্পানির ফাইন্যান্স ম্যানেজার ছিলেন। আর তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের অর্থ বিভাগে কাজ করতেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0