default-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞানের সুযোগ সৃষ্টি করতে বিদেশি সাহিত্য অনুবাদে আরও বেশি মনোনিবেশ করার জন্য বাংলা একাডেমির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলা একাডেমি চত্বরের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


প্রধানমন্ত্রী অনুবাদ সাহিত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘নিজের মায়ের ভাষাকে জানা যেমন দরকার, তেমনি অন্য ভাষা জানাটাও দরকার। সে জন্য অনুবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলা একাডেমিকে সব সময়ই আমি অনুরোধ করেছি অন্যান্য দেশের সাহিত্য যেন আমরা জানতে পারি। কারণ, সাহিত্যের মধ্য দিয়েই মানুষের জীবনচর্চাটা জানা যায়, সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানা যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকের জীবনে বই পড়ার অভ্যাস থাকলে সময় কাটাতেও কষ্ট হয় না। তা ছাড়া এখন মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমেও পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে একটা বই হাতে নিলে ও পাতা উল্টিয়ে পড়ার আনন্দটাই আলাদা, যেটা ডিজিটাল ডিভাইসে পাওয়া যায় না। কাজেই বইয়ের আবেদনটা কখনো মুছে যাবে না। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকলেও ঘুরে ঘুরে বই পড়ার বা বই নাড়াচাড়ার যে আনন্দ, সেটা যেন পাঠকেরা পেতে পারেন, সে জন্যই এ বইমেলার আয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর লেখা আমার দেখা নয়া চীন গ্রন্থের ইংরেজি সংস্করণের (নিউ চায়না ১৯৫২) মোড়ক উন্মোচন করেন।

বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং সংস্কৃতিসচিব মো. বদরুল আরেফিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন।


এবার কবিতায় মুহাম্মদ সামাদ, কথাসাহিত্যে ইমতিয়ার শামীম, প্রবন্ধ ও গবেষণায় আকতার কামাল, অনুবাদে সুরেশরঞ্জন বসাক, নাটকে রবিউল আলম, শিশুসাহিত্যে আনজীর লিটন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় সাহিদা বেগম, বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানে অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, আত্মজীবনীতে ফেরদৌসী মজুমদার এবং ফোকলোর বিভাগে মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২০ লাভ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারে থাকি আর বিরোধী দলে থাকি এক দিনের জন্য হলেও বইমেলায় যাই। এখন করোনার কারণে যেতে পারছি না। কারণ, আমি গেলে এক হাজার লোকের সম্পৃক্ততা হয়। তাদেরও সবার সংক্রমণের কথা চিন্তা করে আমি যাচ্ছি না। তবে আমার মনটা পড়ে আছে সেখানে।’


স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস অনেক ক্ষতি করেছে। জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে। এটি কাটিয়ে উঠতে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রণোদনা ঘোষণা করেছি, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেও সহযোগিতা করেছি। সমগ্র বাংলাদেশে ৭ হাজার ৫০০ শিল্পীকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। তা ছাড়া অন্যান্য শ্রেণি-পেশার লোকদেরও সহযোগিতা করেছি, কেউ বাদ যায়নি।’ করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ এবং অনেক দেশে তৃতীয় ওয়েভ শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘টিকা দিয়ে সুরক্ষিত মনে করবেন না। মাস্ক পরবেন, হাত ধোবেন ও দূরত্ব রক্ষার মাধ্যমে নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষিত রাখবেন। বইমেলায় যাবেন, বই ধরবেন। কিন্তু নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন