বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নে সালিস বৈঠকের নামে মা-বাবাকে বাড়িতে আটকে রেখে এক স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাল্যবিবাহের শিকার মেয়ের বাবা ৭ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ওই স্কুলছাত্রী স্থানীয় এক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও ওই অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের এক তরুণ (১৮) অপহরণ করেন। এরপর এক বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয় ছাতিয়ান ইউপির সদস্য মো. একলাস উদ্দীনের নেতৃত্বে কিছু যুবক মেয়েটিকে উদ্ধার করে সালিস বৈঠক বসান। ওই বৈঠকে প্রথমে ইউপি সদস্য একলাস উদ্দীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে তার মা-বাবার হেফাজতে দেওয়া সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি (ইউপি সদস্য) তাঁর সিদ্ধান্ত পরির্বতন করেন। পরে তিনি ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে বাড়িতে আটকে রেখে স্থানীয় এক মাদ্রাসার মাওলানাকে ডেকে ওই তরুণের সঙ্গে তার বিয়ে দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই মাওলানা গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বেকায়দায় পড়ে এই বিয়ে পড়াতে বাধ্য হয়েছি।’
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য একলাস উদ্দীনের সঙ্গে কথা বলতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ছাত্রীর বাবা গত শনিবার বলেন, এ ঘটনার পর থেকে ওই তরুণ তাঁর লোকজন নিয়ে বাড়িতে এসে এ বিয়ে মেনে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন। এমনকি তাঁর পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে ইউএনও রেজাউল করিমের কাছে ৭ মার্চ একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে রেজাউল করিম গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন