প্লট বরাদ্দে অনিয়মের মামলায় ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্ত শেষে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হয়েছে তাঁরা হলেন সাবেক যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হিসাবরক্ষক মনসুর আলম এবং হিসাব সহকারী মতিয়ার রহমান।
এ বিষয়ে গত বছরের ৩ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আলমগীর কবির ২০০৬ সালে ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি নামে একটি সংগঠনকে নামমাত্র মূল্যে মিরপুরে সাত একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে ওই জমি বরাদ্দ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষতি করে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ঝিলমিল বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে নকশা করা জমি বিনা কারণে বাতিল করে ঢাকা সাংবাদিক সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে বরাদ্দ দেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। ওই সময় গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন মির্জা আব্বাস।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় মির্জা আব্বাস, আলমগীর কবির, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, সাবেক পরিচালক মেহেদী হাসান এবং সাবেক উপপরিচালক আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য কমিশনে সুপারিশ করেন। এজাহারভুক্ত আসামি গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক উপপরিচালক (ভূমি) মো. আজহারুল হককে (বর্তমানে সদস্য-ভূমি) মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন। কমিশন এ সুপারিশ গ্রহণ না করে আবারও তদন্তের জন্য উপপরিচালক হামিদুল হাসানকে নিয়োগ দেয়।
পরবর্তী সময় হামিদুল হাসান নতুন করে অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিলে কমিশন তা অনুমোদন করে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন