সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে মিল্ক ভিটার ফ্যাক্টরিতে দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ছাঁটাই করা শ্রমিকদের কারখানার মূল ফটকে অবস্থান ধর্মঘটের ফলে ঢাকায় দুধ সরবরাহ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে দুধ সরবরাহকারীদের।

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে গত বুধবার থেকে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রায় ৭০ জন শ্রমিক-কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের ওই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এর ফলে কারখানা থেকে ঢাকায় দুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও ঢাকা থেকে দুধ নিতে আসা চারটি ট্যাংকলরি ফটকের সামনে আটকা পড়েছিল।

মিল্ক ভিটার বাঘাবাড়ি কারখানায় প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৭০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় খামারিরা এসব দুধ সরবরাহ করে থাকেন। দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে এসব খামারিকে।

শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রায়হান খামারের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন তাঁর নিজের খামারে এক হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এক সপ্তাহ ধরে মিল্ক ভিটা সকালে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে। মিল্ক ভিটায় দুধ বিক্রি করলে প্রতি লিটার দুধের দাম চর্বি ভেদে ৪২ থেকে ৪৭ টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যায়। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে বাইরে ২০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করতে হয়েছে। অপরদিকে হরতাল-অবরোধের কারণে গরুর খাবার গমের ভুসিপ্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই পথে বসতে হবে।

মিল্ক ভিটার বাঘাবাড়ির কারখানা ব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলী বলেন, পরিবহনজনিত কারণে সংগৃহীত দুধ ঢাকায় পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন