বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১১ মার্চ ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার চুক্তি হয়। ওই দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে জড়িত সে সময়ের মন্ত্রী, সচিব, বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা ও ক্যাপ্টেন ইশরাতকে সংসদীয় কমিটির গতকালের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। গতকালের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। গতকালের বৈঠকে কিছু আলোচনা হলেও আগামী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সংসদীয় কমিটির আগামী বৈঠকে উপস্থিত থাকতে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকে ওই দুটি উড়োজাহাজের আয়–ব্যয় ও লাভ–লোকসানের হিসাব দিয়েছে বিমান মন্ত্রণালয়। তাতে দেখা যায়, ২০১৩–২০১৪ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ওই দুটি উড়োজাহাজ থেকে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। আর ওই দুটি উড়োজাহাজের পেছনে বাংলাদেশ বিমানের ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। তার মানে মোট ১ হাজার ১৬১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো বছরই কোনো লাভ হয়নি। প্রায় দুই বছর এই দুটি উড়োজাহাজ থেকে কোনো আয়ই হয়নি, উল্টো এগুলোর পেছনে খরচ হয়েছে ২৫৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দেওয়া হয়।

বিমান সূত্র জানায়, পাঁচ বছরের চুক্তিতে উড়োজাহাজ দুটি ভাড়া নিয়েছিল বিমান। এর মধ্যে ২০১৪ সালের মার্চে একটি ও মে মাসে আরেকটি উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হয়। ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে চুক্তি ছিল, যাত্রী পরিবহন করুক আর না করুক, মাসে উড়োজাহাজপ্রতি ৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার (৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা) ভাড়া দিতে হবে। সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে হবে। ভাড়ার মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ দুটি আগের অবস্থায় ফেরত দিতে হবে। কিন্তু এক বছরের মাথায় ২০১৫ সালে একটি উড়োজাহাজের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। তখন ইজিপ্ট এয়ার থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার ডলারে ইঞ্জিন ভাড়ায় এনে উড়োজাহাজটি সচল করা হয়। নষ্ট ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয় বিদেশে। সেটা মেরামত করে আনার আগেই আরেকটি ইঞ্জিন বিকল হয়। আবার মাসে ১০ হাজার ডলার ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এ ঘটনা নিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তৎকালীন এমডিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফেরত দেওয়া হয়েছে বিমান দুটি। ওই ঘটনা নিয়ে সংসদীয় কমিটিও তদন্ত করছে।

র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, তানভীর ইমাম, আশেক উল্লাহ রফিক, আনোয়ার হোসেন খান, শেখ তন্ময়, সৈয়দা রুবিনা আক্তার ও কানিজ ফাতেমা আহমেদ অংশ নেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন